দিল্লিতে আইপ্যাক কর্তার গ্রেপ্তার! ভোটের আগে ইডির বড় ধাক্কা তৃণমূল শিবিরে

single balaji

নয়াদিল্লি/কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে বড়সড় রাজনৈতিক ঝড় উঠল। কয়লা কেলেঙ্কারি তদন্তে আবারও সক্রিয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এবার তাদের জালে পড়লেন আইপ্যাক (ইন্ডিয়ান পিএসি)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ডিরেক্টর বিনেশ চান্ডেল, যাকে সোমবার রাতে নয়াদিল্লি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস শিবিরে, আর রাজনৈতিক চাপানউতোরে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

🚨 কি এই পুরো ঘটনা?

ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট’ (পিএমএলএ) অনুযায়ী বিনেশ চান্ডেলকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এই তদন্তের সূত্রপাত হয় কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই)-এর ২০২০ সালের নভেম্বরের একটি এফআইআর থেকে।

অভিযোগ, পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল-এর কুনুস্তোরিয়া ও কাজোড়া এলাকায় ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ইসিএল)-এর খনি ঘিরে কোটি টাকার কয়লা চুরি ও পাচার হয়েছে।

💸 হাওয়ালা লেনদেন, বাড়ছে জটিলতা

ইডির দাবি, কয়লা পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত এক হাওয়ালা অপারেটর আইপ্যাকের সঙ্গে যুক্ত সংস্থা ইন্ডিয়ান পিএসি কনসাল্টিং প্রাইভেট লিমিটেড-এ প্রায় ২০ কোটি টাকা পাঠিয়েছিল।

তদন্তকারী সংস্থা আরও জানিয়েছে, এই টাকার উৎস যে কোম্পানি, তার সঙ্গে দিল্লির কথিত আবগারি দুর্নীতিরও যোগ থাকতে পারে। ফলে গোটা বিষয়টি আরও জটিল আকার নিচ্ছে।

🏠 দেশজুড়ে তল্লাশি, একাধিক নাম জড়াল

২ এপ্রিল ইডি দিল্লি, বেঙ্গালুরু ও মুম্বইতে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায়। এর মধ্যে আইপ্যাকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ঋষি রাজ সিং এবং আপ-এর প্রাক্তন যোগাযোগ দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজয় নায়ার-এর বাড়িও ছিল।

এর আগে ৮ জানুয়ারি কলকাতায় আইপ্যাক অফিস এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈন-এর বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়েছিল, যা ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা হয়।

অভিষেকের তীব্র প্রতিক্রিয়া

এই গ্রেপ্তারির পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়ে বলেন—
“এটা গণতন্ত্র নয়, এটা ভয় দেখানোর চেষ্টা।”

তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের মাত্র ১০ দিন আগে এই ধরনের পদক্ষেপ “লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড”-এর ধারণাকে নষ্ট করছে এবং বিরোধীদের টার্গেট করা হচ্ছে।

🗳️ ভোটের আগে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট। ঠিক একই দিনে তামিলনাড়ুর ২৩৯টি আসনেও ভোটগ্রহণ হবে।

আইপ্যাক বর্তমানে শুধু তৃণমূল নয়, দ্রাবিড় মুন্নেত্র কড়গম (ডিএমকে)-এর জন্যও কাজ করছে। সূত্রের খবর, দুই রাজ্যের নির্বাচনী কৌশল নিয়ে শীঘ্রই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হতে পারে।

🔍 রাজনৈতিক বিশ্লেষণ: বড় বার্তা কী?

বিশেষজ্ঞদের মতে—

  • এই গ্রেপ্তারি নির্বাচনী কৌশলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে
  • বিরোধীরা এটিকে “কেন্দ্রীয় সংস্থার অপব্যবহার” হিসেবে তুলে ধরবে
  • অন্যদিকে শাসক পক্ষ এটিকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ বলেই দাবি করবে

📢 শেষ কথা:

কয়লা কেলেঙ্কারি তদন্ত এখন শুধুমাত্র আর্থিক অপরাধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি পুরোপুরি রাজনৈতিক লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

👉 নির্বাচনের আগে এই ধরনের পদক্ষেপ কি ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলবে, নাকি এটি শুধুই আইনি প্রক্রিয়া—তা নিয়ে এখনই চর্চা তুঙ্গে।

ezgif 263be683d19f0d34
ghanty

Leave a comment