বালু মাফিয়ার দাপট, পানীয় জলের সংকটে গ্রাম—বারাবনিতে ক্ষোভ

single balaji

বারাবনি: পশ্চিম বর্ধমান জেলার বারাবনি থানার অন্তর্গত শ্যামাপুর এলাকায় অজয় নদীর বালিঘাটকে কেন্দ্র করে ফের তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি নিয়ম ও নির্দেশিকাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে বালু মাফিয়ারা প্রকাশ্যে বেআইনি বালু উত্তোলন চালাচ্ছে।

গ্রামবাসীদের দাবি, নির্ধারিত সীমা ও মানচিত্রকে অমান্য করে নদীর মাঝখানে একসঙ্গে পাঁচটি পোকলেন মেশিন নামিয়ে দিনরাত নির্বিচারে বালু তোলা হচ্ছে। ভারী ট্রাক ও ডাম্পারে করে অবিরাম বালু পাচার করা হচ্ছে, যার ফলে বিপুল মুনাফা করছে একাংশের ব্যবসায়ী গোষ্ঠী।

এই লাগামছাড়া খননের ফলে অজয় নদীর স্বাভাবিক গতিপথ বদলে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে পরিবেশের উপর, পাশাপাশি আশেপাশের গ্রামগুলিতে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর দ্রুত নেমে যাওয়ায় তৈরি হয়েছে তীব্র পানীয় জলের সংকট।

WhatsApp Image 2026 05 31 at 16.13.03

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল, খনন এলাকার একেবারে কাছে অবস্থিত বিন্দুডিহ ও শ্যামাপুর গ্রামের আদিবাসী এবং দাস সম্প্রদায়ের বহু পুরনো শ্মশান ঘাট এখন অস্তিত্বের সংকটে। দীর্ঘদিন ধরে এই ঘাটেই শেষকৃত্য ও বিভিন্ন ধর্মীয় আচার সম্পন্ন হয়ে আসছে। কিন্তু লাগাতার খনন ও ভারী যন্ত্রের শব্দে সেই প্রক্রিয়া এখন কার্যত ব্যাহত হচ্ছে, যা স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে গভীর আঘাত হানছে।

প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে গ্রামবাসীরা ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, একাধিকবার জানানো সত্ত্বেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এই পরিস্থিতিতে গ্রামবাসীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দ্রুত এই বেআইনি খনন বন্ধ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন তাঁরা। একই সঙ্গে তাঁরা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতির কাছেও লিখিত অভিযোগ পাঠানো হবে।

বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা চরমে। প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা অঞ্চল। বিশেষজ্ঞদের মতে, অবিলম্বে এই বেআইনি খনন বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে পরিবেশগত বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

ezgif 22b6a523914e707e 300x300 1
ghanty

Leave a comment