হুল দিবসে শহিদদের শ্রদ্ধা, অন্ডাল বিমানবন্দরে শুভেন্দু অধিকারীর জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা

আসানসোল/বাঁকুড়া: হুল বিদ্রোহের বীর শহিদদের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামকে স্মরণ করে বাঁকুড়ায় পালিত হল হুল দিবস। এই উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতা শুভেন্দু অধিকারী বিশেষ বিমানে করে মঙ্গলবার অন্ডালস্থিত কাজী নজরুল ইসলাম বিমানবন্দরে পৌঁছান।

বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা ও কর্মী। বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি, কৃষ্ণেন্দু মুখার্জি, চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অন্যান্য নেতারা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। বিমানবন্দর চত্বরে বিপুল সংখ্যক কর্মীর উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর শুভেন্দু অধিকারী স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে কিছু সময় কাটান এবং সাংগঠনিক কার্যকলাপ ও এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁর এই সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট গুরুত্ব তৈরি হয়েছে।

এরপর তিনি সড়কপথে বাঁকুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তাঁর সফর উপলক্ষে বিমানবন্দর ও সংলগ্ন এলাকায় কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

বাঁকুড়া জেলার মুকুটমণিপুরে একলব্য মডেল আবাসিক বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত হুল দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি হুল বিদ্রোহের শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁদের আত্মত্যাগকে ইতিহাসের অমূল্য সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে আদিবাসী সমাজের স্বাধীনতা, আত্মমর্যাদা এবং অধিকার রক্ষার সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা হয়। বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি এক বৃহৎ জনসমাবেশে পরিণত হয়।

সভায় উপস্থিত বক্তারা শহিদদের আদর্শ অনুসরণ করে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন। তাঁদের মতে, হুল বিদ্রোহ শুধুমাত্র একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, এটি আদিবাসী সমাজের গর্ব, সংগ্রাম এবং আত্মপরিচয়ের প্রতীক।

এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একদিকে যেমন শহিদদের স্মরণ করা হল, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ইতিহাস সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর বার্তাও দেওয়া হল। সব মিলিয়ে, বাঁকুড়ার এই হুল দিবস পালন এক আবেগঘন এবং তাৎপর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানে পরিণত হয়।

Leave a comment