কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের বালি খনি কাণ্ডে ফের তোলপাড় রাজ্য! কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেফতার করল জিডি মাইনিং প্রাইভেট লিমিটেডের মালিক অরুণ সরাফকে। অভিযোগ, তিনি ও তাঁর সংস্থা সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বালিখনি দুর্নীতির মাধ্যমে।
তদন্তকারীদের দাবি, WBMDTCL (West Bengal Mineral Development and Trading Corporation Ltd)-এর সব নিয়ম উপেক্ষা করে চলছিল এই বালি চক্র। ‘যত প্রতারণা, তত মুনাফা’— এটাই ছিল জিডি মাইনিং-এর মূলনীতি!
⚠️ WBMDTCL-এর নিয়ম উড়িয়ে বালি চুরি!
ED সূত্রে খবর, WBMDTCL-এর নিয়ম অনুযায়ী বালি খনন, পরিবহণ, সংরক্ষণ ও বিক্রির জন্য প্রয়োজন সরকার অনুমোদিত পারমিট ও ই-ইনভয়েস। কিন্তু অরুণ সরাফের সংস্থা এসবের কিছুই মানেনি। নকল পারমিট, ভুয়ো ই-ইনভয়েস ও কাগজবিহীন বিক্রির মাধ্যমে কোটি টাকার লেনদেন চলছিল।
তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রায় ১.৯ মিলিয়ন কিউবিক ফিট বালি অবৈধভাবে বিক্রি করেছে জিডি মাইনিং। এর মধ্যে অন্তত ₹৭৯ কোটি টাকা সরকারের রাজস্ব বাবদ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
💣 অ্যাকাউন্ট্যান্টের জবানবন্দিতে ফাঁস বড় রহস্য
ED-এর জেরায় জিডি মাইনিং-এর অ্যাকাউন্ট্যান্ট স্বীকার করেছেন, সংস্থার কোনও সরকারি স্টক রেজিস্টার ছিল না— শুধু Excel শিটে খাতা রাখা হত। সরকারের নির্ধারিত রয়্যালটি না দিয়ে বালি বিক্রি হত গোপনে। তদন্তে দেখা গেছে, কোম্পানির ব্যাংকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ₹১৩০ কোটি টাকার জমা রয়েছে, অথচ বিক্রির হিসাব অনুযায়ী মাত্র ₹১০৩ কোটি টাকার লেনদেনের রেকর্ড পাওয়া গেছে।
অর্থাৎ ₹২৭ কোটি টাকার উৎস অজানা, যার মধ্যে ₹৭৯ কোটি টাকার আত্মসাতের প্রমাণ হাতে পেয়েছে ED।
⚖️ ১৩ দিনের হেফাজতে অরুণ সরাফ, জামিনের আবেদনও নেই
শুক্রবার অরুণ সরাফকে তোলা হয় ইডির বিশেষ আদালতে। ইডি আবেদন জানায় ১৩ দিনের হেফাজতের জন্য। শুনানির সময় বিচারক জানতে চান কেস ডায়েরি আছে কি না, তখন অরুণের আইনজীবী বলেন—
“আমরা জামিনের আবেদন করছি না।”
ইডির দাবি, সরকারী ই-চালান ছাড়া বালি বিক্রি করাটা বড় অপরাধ। কিন্তু অভিযুক্ত নিজেই ভুয়ো ইনভয়েস বানিয়ে সেই বালি বিক্রি করেছেন, যাতে সরকারী রাজস্ব রাজস্বে যায় না।
💰 ভালোভাবে পরিকল্পিত আত্মসাৎ চক্র!
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এটা কোনও সাধারণ দুর্নীতি নয়, বরং একটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সাজানো ফাইন্যান্সিয়াল স্ক্যাম, যেখানে প্রতিটি ধাপে লুকিয়ে ছিল প্রতারণা। সরকারের রাজস্ব বাঁচিয়ে ব্যক্তিগত লাভের জন্য পুরো সিস্টেমের ফাঁকফোকর ব্যবহার করেছেন অরুণ সরাফ।
ইডি এখন খতিয়ে দেখছে— রাজ্যের আরও কোনও বালিব্যবসায়ী এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না। তদন্তকারীদের আশা, অরুণ সরাফের গ্রেফতারের পরই এই বহুল আলোচিত বালি পাচার মামলার বড় চিত্র স্পষ্ট হবে।
⚫ শেষ কথা:
“বালির নিচে লুকিয়ে ছিল কোটি টাকার দুর্নীতির পাহাড়!”
জিডি মাইনিং কাণ্ড এখন রাজ্যের নতুন রাজনৈতিক ভূমিকম্প। সরকারী নিয়ম উপেক্ষা করে যেভাবে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের উপর নজরদারি নিয়ে।











