কলকাতা/আসানসোল: আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বাজেট অধিবেশনের আগে শিল্পমহলের পক্ষ থেকে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হল। ফেডারেশন অফ সাউথ বেঙ্গল চেম্বার্স অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ফসবেকি) রাজ্যের অর্থমন্ত্রীর কাছে একটি বিস্তারিত স্মারকলিপি জমা দিয়ে শিল্পোন্নয়ন, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেছে।
১৪ জুন ২০২৬ তারিখে পাঠানো এই স্মারকলিপিতে ফসবেকি জানিয়েছে, তারা পশ্চিমবঙ্গের ১১টি জেলার ব্যবসায়িক সংগঠনগুলির প্রতিনিধিত্ব করে এবং দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে। সংগঠনের দাবি, আগামী বাজেটে শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানো ও কর্মসংস্থান তৈরির জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
📊 নতুন শিল্পনীতির দাবি
ফসবেকি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কার্যকর শিল্পনীতির অভাবে রাজ্যে শিল্পায়নের গতি ব্যাহত হচ্ছে। তাই একটি আধুনিক ও সর্বাঙ্গীণ শিল্পনীতি দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) এবং বৃহৎ শিল্পের জন্য নতুন প্রণোদনা প্রকল্প চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
💰 ভর্তুকি ও প্রণোদনার প্রস্তাব
স্মারকলিপিতে মূলধন বিনিয়োগ ভর্তুকি, সুদে ছাড়, বিদ্যুৎ ভর্তুকি, স্ট্যাম্প ডিউটি ও রেজিস্ট্রেশন ফিতে ছাড় এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রণোদনার মতো সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি বকেয়া এমএসএমই ভর্তুকি দ্রুত মেটানোর দাবিও তোলা হয়েছে।
🏗️ জমি ও পরিকাঠামো সংস্কার
জমি ও রিয়েল এস্টেট ক্ষেত্রে সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে ফসবেকি সর্কেল রেট পুনর্বিবেচনার দাবি তুলেছে। শিল্পের প্রয়োজনে জমির সীমাবদ্ধতা শিথিল করা এবং প্রতিটি জেলায় সরকারি শিল্প পার্ক গড়ে তোলার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
🌉 বর্ণপুরে নতুন সেতুর দাবি
অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বর্ণপুরে দামোদর নদীর উপর একটি নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে ফসবেকি। তাদের মতে, এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে এবং ভবিষ্যতের শিল্পোন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
🚀 আসানসোল-দুর্গাপুরে এসইজেডের দাবি
ফসবেকি আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলকে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে। এতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে, রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে এবং উৎপাদন ক্ষেত্র শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে সংগঠন।

🏙️ স্মার্ট সিটি হিসেবে আসানসোল
আসানসোলকে স্মার্ট সিটি মিশনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে রাজ্য সরকারকে কেন্দ্রের কাছে সুপারিশ করার অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে শহরের নগর ও লজিস্টিক পরিকাঠামোর দ্রুত উন্নয়ন সম্ভব হয়।
⚙️ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব
বন্ধ শিল্প ইউনিট পুনরুজ্জীবিত করতে বিশেষ প্যাকেজ, রাজ্যজুড়ে প্রতিযোগিতামূলক বিদ্যুৎ দর চালু করা, শিল্পের জন্য সিঙ্গল উইন্ডো ব্যবস্থাকে কার্যকর করা এবং অগ্নিনির্বাপণ ও বিল্ডিং অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার মতো প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
এই স্মারকলিপিতে ফসবেকির সভাপতি শচীন্দ্র নাথ রায় এবং সাধারণ সম্পাদক সন্দীপ ঝুনঝুনওয়ালার স্বাক্ষর রয়েছে। সংগঠন আশা প্রকাশ করেছে, আগামী বাজেটে এই প্রস্তাবগুলি অন্তর্ভুক্ত করা হলে পশ্চিমবঙ্গ নতুন করে একটি শক্তিশালী শিল্পকেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে।
📌 বিশেষ বিশ্লেষণ:
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই সুপারিশগুলি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে আসানসোল-দুর্গাপুর অঞ্চল পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহৎ শিল্প হাব হয়ে উঠতে পারে এবং বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
👉 এখন দেখার, রাজ্য সরকার আসন্ন বাজেটে শিল্পমহলের এই গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলিকে কতটা গুরুত্ব দেয়।


