হোলির দিন বরাকরে উত্তেজনা! দুই সম্প্রদায়ের সংঘর্ষে ইট-পাটকেল, বোমা ও গুলির অভিযোগে তোলপাড় এলাকা

single balaji

আসানসোল, পশ্চিম বর্ধমান: রঙের উৎসব হোলি উদযাপনের মধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল আসানসোল শিল্পাঞ্চলের বরাকর শহরের ৬৮ নম্বর ওয়ার্ডের করিম ডাঙ্গাল এলাকা। বুধবার হোলি খেলাকে কেন্দ্র করে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে বলে অভিযোগ। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, বোমাবাজি এবং আকাশে গুলি চালানোর অভিযোগ সামনে এসেছে।

এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের প্রায় আটজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বরাকর ফাঁড়ির এসআই সোমনাথ-এর নামও রয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ঘটনাস্থলে মোতায়েন পুলিশ

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট ওয়েস্টের এসিপি জাই হুসেন-এর নেতৃত্বে বিপুল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে এলাকায় টহল বাড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার এলাকায় পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ছিল। এদিন বারাকর ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক অঞ্জন রজক নিজেও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখেন।

কীভাবে শুরু হয় বিতর্ক

স্থানীয় বাসিন্দা রাজু যাদব জানান, বুধবার দুপুরে কয়েকজন যুবক হোলি খেলার পর করিম ডাঙ্গালের একটি নলের কাছে স্নান করতে যাচ্ছিলেন। সেই সময় পথের ধারে মসজিদের সামনে রাখা একটি ডাস্টবিনে একজন যুবক পড়ে গেলে সেটি উল্টে যায়

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে উপস্থিত অন্য সম্প্রদায়ের তিন-চারজন যুবক ওই যুবককে মারধর করে বলে অভিযোগ। রাজু যাদবের দাবি, বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নেওয়া সম্ভব ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি হঠাৎই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

অভিযোগ, এরপর হঠাৎ করেই শুরু হয় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ। পাশাপাশি বোমা ছোড়া এবং আকাশে গুলি চালানোর ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে। এতে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ইট-পাটকেলে কারু ভূইয়া এবং বিনয় কুমার-এর মাথা ফেটে যায়। অন্যদিকে বোমার আঘাতে আহত হন রাজু যাদব এবং অক্ষয় পাসওয়ান

স্থানীয় বাসিন্দা তারা দেবী বলেন, রেললাইনের দিক থেকে পাথর ছোড়া হয়েছিল। ফলে এলাকায় প্রচুর পাথর ছড়িয়ে পড়ে। এতে একটি অটোরিকশার কাঁচ ভেঙে যায় এবং একটি বাড়ির এলবেস্টার ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়

অন্য পক্ষের বক্তব্য

অন্যদিকে করিম ডাঙ্গালের আহমেদ রজা জামা মসজিদ কমিটির সম্পাদক শোহরাব খান এবং আমনুলা খান (পাপ্পু) যৌথভাবে জানান, কিছু যুবক হোলি খেলতে খেলতে মদ্যপ অবস্থায় মসজিদের কাছে এসে ডাস্টবিন উল্টে দেয়।

তাঁদের দাবি, পরে ফেরার সময় মসজিদের দিকে পাথর ছোড়া হয়। এরপর দুই পক্ষ থেকেই পাথর নিক্ষেপ শুরু হয়। শোহরাব খানের অভিযোগ, এক পক্ষের তরফে বোমা ছোড়া এবং আকাশে গুলি চালানো হয়েছিল।

স্থানীয় বাসিন্দা গুলজার বেগম বলেন, এই ঘটনায় তাঁর বাড়ির কাঁচ ভেঙে গেছে এবং ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজনের চিকিৎসা বর্তমানে দুর্গাপুরে চলছে বলেও জানা গেছে। এই ঘটনার বিষয়ে বারাকর ফাঁড়িতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ভারতীয় জনতা পার্টির জেলা সাধারণ সম্পাদক কেশব পোদ্দার বলেন, পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে দেখা যাচ্ছে যে যখনই হিন্দু সম্প্রদায় কোনো উৎসব পালন করে, তখন বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করা হয়। তাঁর দাবি, জনগণ সবকিছু বুঝে গিয়েছে এবং আগামী নির্বাচনে এর জবাব দেবে।

পুলিশের বক্তব্য

তবে এই বিষয়ে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট ওয়েস্টের ডিসিপি সনা আখতার বলেন, বোমাবাজি বা গুলিচালনার মতো কোনো ঘটনার সত্যতা এখনও পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, কোনো পক্ষের তরফে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়েনি এবং কাউকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি।

পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখার জন্য নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

নির্বাচন ঘিরে সংবেদনশীল পরিস্থিতি

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে সামনে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে এই ধরনের ঘটনা প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। ফলে প্রশাসন পরিস্থিতির দিকে বিশেষ নজর রাখছে এবং সাধারণ মানুষকে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ghanty

Leave a comment