আসানসোল: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকারের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে জনসংযোগ অভিযান শুরু করেছে বিজেপি। সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ এবং সাফল্য তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ। এরই অংশ হিসেবে রবিবার আসানসোল বিজেপি জেলা কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়, যেখানে গত ১২ বছরে কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প ও উন্নয়নমূলক কাজের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
এই সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি, বিধায়ক কৃষ্ণানন্দ মুখার্জি এবং আসানসোল সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য। তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে কাকোলি ঘোষ দস্তিদারের পুত্রের তরফে তৃণমূল নেতাদের নোটিশ পাঠানোর প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “১৫ বছর ধরে কাকোলি ঘোষ দস্তিদার কী করছিলেন? টাকা দিয়ে টিকিট নিয়েছিলেন। এখন বললে কী হবে?” তাঁর এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, এই ধরনের মন্তব্য তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরে চলা গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকেই সামনে নিয়ে আসছে। তাঁর মতে, দলের অভ্যন্তরীণ মতভেদ এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে এবং বিভিন্ন নেতার বক্তব্যে তা স্পষ্ট।
অন্যদিকে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের আলাদা অবস্থান এবং তৃণমূলের মধ্যে ‘এ টিম’ ও ‘বি টিম’ নিয়ে জল্পনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দুই নৌকায় পা রাখা তৃণমূলের স্বভাব। কে এ টিমে যাচ্ছে আর কে বি টিমে যাচ্ছে, সে বিষয়ে আমাদের কোনো ধারণা নেই।” পাশাপাশি তিনি মন্তব্য করেন, তৃণমূল এত দ্রুত ভেঙে পড়বে, তা তাঁরাও কল্পনা করেননি।
সাংবাদিক সম্মেলনে অগ্নিমিত্রা পাল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আরও তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “দলটি আজ সম্পূর্ণভাবে ভেঙে গিয়েছে। কোনো নীতি বা আদর্শ নেই, শুধুমাত্র সিন্ডিকেট এবং টাকার রাজনীতি চলছে। নেতৃত্ব ধৃতরাষ্ট্রের মতো চোখ বুজে বসে আছে, যার ফলে দলের পতন অনিবার্য হয়ে উঠেছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজর রাজ্যের উন্নয়নের দিকে নয়, বরং তাঁর ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই বেশি। এর ফলেই তৃণমূল ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং দলের পতনের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
বিজেপির দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের ভিতরে অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে এবং আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে তার বড় প্রভাব পড়বে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্যে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।
সবমিলিয়ে, মোদী সরকারের ১২ বছরের সাফল্য তুলে ধরার পাশাপাশি এই সাংবাদিক সম্মেলন আসানসোলের রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন করে উত্তেজনার পারদ বাড়িয়ে দিয়েছে।


