‘পুষ্পা’ চ্যাট বিতর্ক ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। অবশেষে প্রশাসনিক স্তরে বড় পদক্ষেপ নিল নবান্ন। মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের বিতর্কিত বিডিও শানু বক্সিকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি (ওএসডি) পদে স্থানান্তর করা হয়েছে। বুধবার নবান্নের তরফে জারি হওয়া নতুন বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
কয়েকদিন আগেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী যাহাঙ্গীর খান, যিনি ‘পুষ্পা’ নামে পরিচিত, তাঁর সঙ্গে শানু বক্সির কথোপকথনের একটি তথাকথিত চ্যাট সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের তরফে শানু বক্সিকে ফলতার বিডিও হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। পরে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন তাঁকে হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকে বদলি করে।
নবান্নের নির্দেশ অনুযায়ী, এখন শানু বক্সিকে স্টেট গেজেটিয়ার্স দপ্তরে ওএসডি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের নতুন বিডিও হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে ধ্রুবাশীষ সামন্তকে।
এছাড়াও, নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগর-১ ব্লকের বিডিও রঞ্জন সর্দারকেও একইভাবে ওএসডি পদে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাঁর জায়গায় নতুন বিডিও হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন গার্গী দাস।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে ফলতা কেন্দ্রটি বিশেষভাবে আলোচনায় ছিল। তৃণমূল প্রার্থী যাহাঙ্গীর খান পুনর্নির্বাচনের আগে হঠাৎই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেছিলেন, যা রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বাড়িয়েছিল।
এরই মধ্যে বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি একটি তথাকথিত ‘গোপন চ্যাট’ প্রকাশ করেন, যেখানে দাবি করা হয় যে ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিপুল ব্যবধানের পেছনে কারচুপি হয়েছিল এবং সেই চ্যাটই তার প্রমাণ।
তবে শানু বক্সি এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, যাহাঙ্গীর খানের সঙ্গে তাঁর কোনও ফোনালাপ হয়নি এবং ভাইরাল হওয়া চ্যাটটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে।
এই ঘটনার জেরে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্কের প্রভাব আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।


