অবৈধ খনন ও মাফিয়ারাজের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল বারাবনি থানার পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গত রাতে একযোগে অভিযান চালিয়ে আমডিহা, চিনচুরিয়া ও কল্যাণপুর হাউজিং এলাকায় চাঞ্চল্যকর ছাপেমারি চালায় পুলিশ। হঠাৎ এই অভিযানে কার্যত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে অবৈধ পাথর খনি চক্রের মধ্যে।
অভিযান চলাকালীন চিনচুরিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় খনি মালিক উত্তম ঘোষকে। যদিও ঘটনাস্থল থেকে আরও কয়েকজন অভিযুক্ত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তাঁদের খোঁজে ইতিমধ্যেই তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
বিপুল পরিমাণ যন্ত্র ও যান বাজেয়াপ্ত
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন ও পরিবহণের কাজ চলছিল। অভিযানের সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম ও যানবাহন বাজেয়াপ্ত করে। এর মধ্যে রয়েছে দুটি ডাম্পার, দুটি ট্র্যাক্টর এবং একটি পোকলেন মেশিন—যা পাথর ভাঙা ও লোড করার কাজে ব্যবহৃত হত। সমস্ত বাজেয়াপ্ত সামগ্রী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
আদালতে পেশ, রিমান্ডের আবেদন
বৃহস্পতিবার সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে গ্রেফতার অভিযুক্ত উত্তম ঘোষকে আসানসোল জেলা আদালতে পেশ করা হয়। বারাবনি থানার পুলিশ আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছে, যাতে অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা যায় এবং এই অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য বড় মাথাদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়।

বড় চক্রের ইঙ্গিত, তদন্তে গতি
পুলিশের অনুমান, এই অবৈধ খনন চক্রটি অনেক বড় এবং এর সঙ্গে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে। পলাতক অভিযুক্তদের ধরতে সম্ভাব্য বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে। পুরো ঘটনার তদন্ত ইতিমধ্যেই জোরকদমে শুরু হয়েছে।
পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের অবৈধ পাথর খনন শুধু আইন ভঙ্গই নয়, পরিবেশের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর। এতে মাটির গঠন নষ্ট হয়, ভূগর্ভস্থ জলের স্তর কমে যায় এবং আশেপাশের বাস্তুতন্ত্রের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে।
কঠোর বার্তা, কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায়
এই অভিযানের মাধ্যমে পুলিশ অবৈধ খননের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিলেও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এই চক্রের শিকড় কতটা গভীরে? ভবিষ্যতে কি এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে, নাকি কিছুদিন পর আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে?
বারাবনির এই ঘটনা এখন রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক কার্যকলাপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। নজর এখন তদন্তের অগ্রগতি ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।















