আসানসোল: আসানসোল শহরে পার্কিং টেন্ডারকে কেন্দ্র করে আবারও বিতর্কের ঝড় উঠেছে। আসানসোল পৌরনিগমের অধীনে পরিচালিত বিভিন্ন পার্কিং লট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। রাজনৈতিক মহলেও এই বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার চাপানউতোর হয়েছে।
সম্প্রতি আসানসোল বাজার এলাকায় বিভিন্ন পার্কিংয়ে অবৈধ টাকা তোলার অভিযোগ সামনে আসে। এই ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটকও করে। যদিও গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা মূলত কর্মচারী বলে জানা গেছে, কিন্তু অভিযোগ উঠছে—আসল পার্কিং সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত বড় মাথারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।
সূত্রের খবর, পার্কিং ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয় এবং এটি একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এমনকি জিজ্ঞাসাবাদের সময় কিছু পুলিশকর্মীর নামও উঠে এসেছে বলে শোনা যাচ্ছে, যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত বড় কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
শহরে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে—পার্কিং পরিচালনার উপর কি কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীরই নিয়ন্ত্রণ থাকবে, নাকি এবার স্বচ্ছ পদ্ধতিতে নতুনভাবে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে? আরও প্রশ্ন উঠছে, যাদের বিরুদ্ধে আগে পৌরনিগমের বকেয়া না দেওয়ার অভিযোগ ছিল, তারা কি নতুন কোম্পানি বা ভিন্ন নামে আবারও টেন্ডারে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করছে?

এই পরিস্থিতির মধ্যেই আসানসোল পৌরনিগম (AMC) শহরের বিভিন্ন পার্কিং লট পরিচালনা ও পার্কিং ফি সংগ্রহের জন্য ই-কোটেশন (NIeQ) আহ্বান করেছে। এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি ১ জুন ২০২৬ তারিখে অধীक्षण প্রকৌশলীর পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আর্থিকভাবে সক্ষম ও অভিজ্ঞ সংস্থা, এজেন্সি, কোম্পানি, সমবায় সমিতি, পার্টনারশিপ ফার্ম এবং স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠানগুলির কাছ থেকে অনলাইনে আবেদন চাওয়া হয়েছে। নির্বাচিত সংস্থাকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পার্কিং লট পরিচালনা ও ফি সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হবে।
জানা গেছে, পার্কিং লট নম্বর-৪-এর জন্য বেস মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি মাসে ৭৪ হাজার টাকা (জিএসটি ও অন্যান্য করসহ)। এর জন্য অনলাইনে ১৭ হাজার ৭৬০ টাকা আর্নেস্ট মানি জমা দিতে হবে। পার্কিং লট নম্বর-৫-এর জন্যও আবেদন আহ্বান করা হয়েছে।
এই পার্কিং লটগুলির জন্য চুক্তির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ মাস। আগ্রহী আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম ও শর্ত মেনে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।
এখন দেখার বিষয়, নতুন এই টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পৌরনিগম পার্কিং ব্যবস্থা নিয়ে ওঠা অভিযোগ ও বিতর্কের কতটা সঠিক জবাব দিতে পারে। শহরবাসীর একাংশের দাবি, শুধুমাত্র ছোট কর্মচারীদের গ্রেপ্তার করে দায় এড়ানো যাবে না—আসল সিন্ডিকেট ও প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতেই হবে।
👉 সব মিলিয়ে, আসানসোলের পার্কিং টেন্ডার ইস্যু এখন বড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রশ্নে পরিণত হয়েছে, যার উত্তরের অপেক্ষায় গোটা শহর।
















