আসানসোল: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-কে ঘিরে আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। শনিবার ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) প্রার্থী কৃষ্ণেন্দু মুখার্জি-র নির্বাচনী এজেন্টরা এক সাংবাদিক সম্মেলনে একাধিক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে কার্যত রাজনৈতিক মহলে ঝড় তুলেছেন।
সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপি নেতারা একটি ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন)-এর প্রোটোটাইপ সামনে রেখে দেখান, কীভাবে সাধারণ ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে বলে তাঁদের দাবি।
🎯 ‘বাটন নম্বর’ নিয়ে ছড়ানো হচ্ছে বিভ্রান্তি!
বিজেপির নির্বাচনী এজেন্ট মদন মোহন চৌবে ও দুর্গেশ নাগী অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে এলাকাজুড়ে ভুয়ো প্রচার চালানো হচ্ছে। বাজার, পাড়া ও জনবহুল এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে যে কৃষ্ণেন্দু মুখার্জির ইভিএম বাটন নম্বর ১০।
👉 অথচ বাস্তবে তাঁর প্রতীক ‘পদ্ম’ এবং ইভিএমে তাঁর বাটন নম্বর ১।
তাঁদের দাবি, এই বিভ্রান্তিমূলক প্রচারের মূল উদ্দেশ্য হল ভোটারদের ভুল পথে পরিচালিত করা এবং বিজেপির ভোট নষ্ট করা।
💰 ‘লিফাফা কালচার’! টাকা বিলির গুরুতর অভিযোগ
সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপি নেতারা আরও দাবি করেন, ভোটারদের প্রভাবিত করতে গোপনে টাকা ভর্তি লিফাফা বিলি করা হচ্ছে। যদিও সরাসরি কোনও দলের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবুও ইঙ্গিত স্পষ্টভাবেই শাসক দলের দিকেই।
বিজেপির অভিযোগ, এই ‘লিফাফা কালচার’ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে এবং নির্বাচনকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
📌 ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে বিজেপি এবং দ্রুত তদন্ত ও কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।
🚨 CRPF মোতায়েন নিয়ে অসন্তোষ
নির্বাচনী এজেন্ট দুর্গেশ নাগী কেন্দ্রীয় বাহিনী CRPF-এর মোতায়েন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, ভোটকেন্দ্রে যেভাবে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, তাতে নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় তৈরি হচ্ছে।
👉 তাঁর মতে, বর্তমান মোতায়েনের ধরন শাসক দলের পক্ষে সুবিধাজনক হতে পারে এবং ভোটারদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এই বিষয়েও নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে বিজেপি।
🔎 ভোটের আগে বাড়ছে রাজনৈতিক টানাপোড়েন
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসানসোল উত্তর একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হওয়ায় এখানে প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত সংবেদনশীল। ইভিএম নিয়ে গুজব, টাকা বিলির অভিযোগ এবং নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন—সব মিলিয়ে ভোটের আগে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
💬 “স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই”—বিজেপির দাবি
বিজেপি নেতারা জানিয়েছেন, তাঁদের মূল লক্ষ্য একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা। তাঁরা নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যাতে সমস্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।















