আসানসোল: কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের নীতির বিরুদ্ধে সোমবার আসানসোলে বামফ্রন্ট এবং ডিওয়াইএফআই-এর উদ্যোগে এক বৃহৎ বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। গির্জা মোড় থেকে শুরু হওয়া মিছিল ভগত সিং মোড় হয়ে কোর্ট মোড়ের দিকে অগ্রসর হলে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এই বিক্ষোভে হাজার হাজার বামপন্থী কর্মী ও সমর্থক অংশ নেন। অনেকের হাতেই দেখা যায় ভারতের সংবিধানের কপি, যা এই আন্দোলনের প্রতীকী গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে। বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও সরকারের নীতির বিরুদ্ধে পোস্টার, ব্যানার এবং স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।
🔥 প্রধান দাবিগুলি কী ছিল?
এই আন্দোলনের অন্যতম মূল দাবি ছিল শ্রম কোডে পরিবর্তনের বিরোধিতা, পাশাপাশি বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি এবং দুর্নীতির অভিযোগও সামনে আনা হয়। বাম নেতাদের অভিযোগ, এই নীতিগুলি সাধারণ মানুষ ও শ্রমজীবী শ্রেণির স্বার্থবিরোধী।
বামফ্রন্ট নেতা গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সংবিধানবিরোধী কাজ করার অভিযোগ তুলে বলেন, শ্রম কোড অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধেও তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।
⚠️ পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, পরিস্থিতি উত্তপ্ত
মিছিল যখন কোর্ট মোড়ে পৌঁছায়, তখন পুলিশ আগে থেকেই ব্যারিকেড বসিয়ে মিছিল আটকায়। এরপর এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন কিছু আন্দোলনকারী ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাদের বাধা দেয় এবং মিছিলকে এগোতে দেয়নি। এরপর আন্দোলনকারীরা রাস্তায় বসে পড়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে বিক্ষোভ ও স্লোগান চালিয়ে যান।
🚨 ‘জেল ভরো আন্দোলন’-এর ডাক
বামফ্রন্ট এই কর্মসূচিকে ‘জেল ভরো আন্দোলন’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। আন্দোলনের সময় পুলিশ একাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করে। কিছু সময়ের জন্য গোটা এলাকায় উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়।
📊 কতজন অংশ নিলেন?
বামফ্রন্টের দাবি, প্রায় ৫,০০০-এর বেশি মানুষ এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশকে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করতে হয়।
🗣️ আন্দোলন চলবে আগামীতেও
বাম নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়েছে, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের নীতির বিরুদ্ধে এই আন্দোলন ভবিষ্যতেও জারি থাকবে। আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা।
👉 উপসংহার:
আসানসোলের এই বিক্ষোভ শুধুমাত্র একটি প্রতিবাদ নয়, বরং রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন বার্তা দিচ্ছে। ‘জেল ভরো আন্দোলন’-এর মাধ্যমে বামপন্থীরা যে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিচ্ছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

