আসানসোল: দীর্ঘদিনের বকেয়া টাকার দাবিতে অবশেষে সরব হলেন প্রায় ৩০০ জন ঠিকাদার। মঙ্গলবার আসানসোল পুরনিগমের সদর দফতরে মেয়র বিধান উপাধ্যায়ের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন তারা। অভিযোগ, গত কয়েক বছরে ১০৬টি ওয়ার্ড জুড়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করলেও এখনও পর্যন্ত তাদের প্রাপ্য অর্থ মেলেনি।
প্রতিনিধিদলের সদস্য তরিত রায় জানান, গত পাঁচ বছরে আসানসোল পুরনিগম এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে রাস্তা, নিকাশি ব্যবস্থা এবং অন্যান্য পরিকাঠামোগত উন্নয়নের একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এই সব কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ৩০০-রও বেশি ঠিকাদার। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার পরও তাদের বিল পরিশোধ করা হয়নি, ফলে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন তারা।

তিনি আরও বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে মেয়রের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। মেয়র বিধান উপাধ্যায় জানান, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলির জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল ইতিমধ্যেই উপলব্ধ রয়েছে। তবে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়ার কারণে অর্থ প্রদান কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন, খুব শীঘ্রই সব ঠিকাদারের বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেওয়া হবে।
এদিকে আসানসোল উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখার্জির মুখপাত্র দুর্গেশ নাগী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদাররা তাদের প্রাপ্য টাকার অপেক্ষায় রয়েছেন। বিষয়টি বিধায়কের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানান, এই সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দুর্গেশ নাগী পুরনিগমের বর্তমান বোর্ডের কার্যপ্রণালী নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, আগের বোর্ড ১০৬টি ওয়ার্ডের সুষ্ঠু পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছে। বহু কাউন্সিলর জনসাধারণের আস্থা হারিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। যদিও তিনি স্পষ্ট করেন, এই মুহূর্তে তাদের মূল লক্ষ্য ঠিকাদারদের বকেয়া সমস্যা দ্রুত সমাধান করা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বকেয়া টাকা দ্রুত মেটানো না হলে ঠিকাদাররা বড়সড় আন্দোলনের পথে হাঁটতে পারেন। এতে শহরের চলমান উন্নয়নমূলক কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এখন দেখার বিষয়, মেয়রের আশ্বাস কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়। আপাতত আসানসোল জুড়ে একটাই প্রশ্ন—ঠিকাদারদের বকেয়া টাকা কবে মিলবে?















