আসানসোল: বালির (বালি/বালু) বাড়তে থাকা কালোবাজারি এবং বালি মাফিয়াদের ক্রমবর্ধমান দাপটের বিরুদ্ধে আসানসোলে প্রতিবাদে নামল কংগ্রেস। শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে সংগঠিত এই বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন দলের প্রভাবশালী নেতারা—প্রসেনজিৎ পুজারি, এস এম মুস্তাফা এবং রবি যাদব।
বিক্ষোভ চলাকালীন কংগ্রেস নেতারা জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁদের অভিযোগ, এলাকায় বালির অবৈধ ব্যবসা শুধু সরকারি রাজস্বের ক্ষতিই করছে না, বরং সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করছে। বাড়ি নির্মাণ থেকে শুরু করে ছোটখাটো কাজ—সব ক্ষেত্রেই বালির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি মানুষের নাভিশ্বাস তুলে দিয়েছে।
এরপর জেলা শাসকের দফতরে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়ে কংগ্রেস নেতারা সরকারের কাছে দাবি জানান, বালির দাম নির্দিষ্ট হারে বেঁধে দিতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পায়। পাশাপাশি বালির অবৈধ মজুত এবং কালোবাজারির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি তোলা হয়।
প্রসেনজিৎ পুজারি, এস এম মুস্তাফা এবং রবি যাদব বলেন, জেলায় চালু থাকা সমস্ত বৈধ বালিঘাটের তালিকা এবং তাদের মজুতের পরিমাণ দ্রুত প্রকাশ করতে হবে। এতে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে এবং মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য কমানো সম্ভব হবে।
নেতারা আরও দাবি করেন, প্রশাসন শুধু মুখে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলছে, কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হচ্ছে না। তাঁরা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন—যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে কংগ্রেস এই ইস্যুকে সামনে রেখে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, বালির লাগামছাড়া দামের কারণে সাধারণ মানুষের বাড়ি তৈরির স্বপ্ন ক্রমশ অধরা হয়ে উঠছে। ফলে এই সমস্যার দ্রুত সমাধান এখন সময়ের দাবি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বালির অবৈধ খনন শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, পরিবেশের জন্যও মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়া থেকে শুরু করে ভূমিক্ষয়—সবকিছুই এর প্রভাব ফেলছে।
এই পরিস্থিতিতে আসানসোলের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, প্রশাসন কংগ্রেসের দাবিগুলিকে কতটা গুরুত্ব দেয় এবং সমস্যার সমাধানে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

