আসানসোল: কন্যাসন্তানের জন্ম মানেই আনন্দ, গর্ব এবং নতুন স্বপ্ন—এই বার্তাই যেন আরও একবার সামনে এল এক পরিবারের অভিনব উদ্যোগে। মেয়ের জন্মের আনন্দে গোটা গাড়ি ফুল ও বেলুন দিয়ে সাজিয়ে ফেলল পরিবার। গাড়িতে লাগানো হল ‘মেয়ে হয়েছে, গর্ব হয়েছে’ লেখা পোস্টার। সেই সাজানো গাড়িতেই নবজাতককে প্রথমবার নিয়ে যাওয়া হল তার নানির বাড়ি চিত্তরঞ্জনে।
ফিরোজপুরের বাসিন্দা এই পরিবারের অভিনব উদযাপন আসানসোলের রাস্তায় পথচলতি মানুষেরও নজর কেড়েছে। ফুল ও রঙিন বেলুনে সাজানো গাড়ি দেখে অনেকেই কৌতূহলী হয়ে ওঠেন। গাড়িতে থাকা বার্তাটি আরও বেশি করে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
মেয়ের জন্মেই উৎসব, বিশেষ বার্তা পরিবারের
নবজাতকের বাবা জসলিন সিং সান্ধু, মা নিধি শর্মা এবং নানি মৌসুমি কুমারী শর্মা ফিরোজপুর থেকে চিত্তরঞ্জনের উদ্দেশে রওনা দেন। পরিবারের কাছে এই যাত্রা ছিল শুধুমাত্র একটি শিশুকে নানির বাড়ি নিয়ে যাওয়া নয়, বরং কন্যাসন্তানের জন্মকে সম্মানের সঙ্গে উদযাপন করার একটি বিশেষ মুহূর্ত।
নবজাতকের মা নিধি শর্মা জানান, মেয়ের জন্মে গোটা পরিবার অত্যন্ত খুশি। তাঁর মতে, ছেলে ও মেয়ের মধ্যে কোনও পার্থক্য করা উচিত নয়। মেয়েদেরও ছেলেদের মতোই ভালোবাসা, সম্মান ও সুযোগ পাওয়া উচিত।
তিনি বলেন, মেয়ের জন্মের আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি সমাজের কাছেও একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছেন তাঁরা। কন্যাসন্তান বোঝা নয়, বরং পরিবারের গর্ব—এই ভাবনাকেই সামনে আনতে চেয়েছেন তাঁরা।
‘মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরছি, আনন্দের শেষ নেই’
নবজাতকের নানি মৌসুমি শর্মা জানান, নিজের মেয়েকে তিনি ভালোভাবে মানুষ করেছেন। এবার মেয়ের সন্তানকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার মুহূর্তটিও তাঁর কাছে অত্যন্ত আনন্দের।
তিনি বলেন, নাতনিকে ঘরে নিয়ে যাওয়ার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। মেয়েদের সম্মান করা অত্যন্ত জরুরি। এই ধরনের উদ্যোগ সমাজের মানুষের মধ্যেও ইতিবাচক চিন্তাভাবনা তৈরি করতে পারে।
আসানসোলের রাস্তায় থমকে গেল পথচলতি মানুষের নজর
ফুল ও বেলুনে সাজানো গাড়িটি যখন আসানসোলের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল, তখন অনেকেরই নজর আটকে যায় গাড়িটির দিকে। সাধারণত নবজাতককে হাসপাতাল থেকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় এমন সাজসজ্জা দেখা গেলেও, কন্যাসন্তানের জন্মকে কেন্দ্র করে বিশেষভাবে গাড়ি সাজিয়ে উদযাপনের এই ছবি স্থানীয়দের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করে।
গাড়িতে লেখা ‘মেয়ে হয়েছে, গর্ব হয়েছে’ বার্তাটিও অনেকের মন ছুঁয়ে যায়। সামাজিক মাধ্যমে এই ধরনের ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে কন্যাসন্তানকে ঘিরে ইতিবাচক সামাজিক বার্তাও আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছতে পারে।
কন্যাসন্তানের জন্মকে আনন্দের সঙ্গে স্বাগত জানিয়ে এই পরিবার কার্যত একটি বার্তাই দিল—সন্তান ছেলে হোক বা মেয়ে, তার আগমনই পরিবারের সবচেয়ে বড় আনন্দ।

