আসানসোল: আস্থা, ভক্তি ও ঐতিহ্যের অপূর্ব মিলনে বুধবার মুখর হয়ে উঠল আসানসোলের কুল্টি এলাকা। ১০২ বছরের প্রাচীন প্রথা মেনে এখানে জগন্নাথদেবের পবিত্র স্নানযাত্রা অত্যন্ত ভক্তিভরে উদযাপিত হয়। এই বিশেষ উপলক্ষে হাজার হাজার ভক্ত মন্দির প্রাঙ্গণে ভিড় জমিয়ে এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশ সৃষ্টি করেন।
🙏 শতবর্ষ পেরিয়ে অটুট ঐতিহ্য
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বার্ষিক রথযাত্রার প্রায় ১৫ দিন আগে জগন্নাথদেবকে বিধি মেনে পবিত্র স্নান করানো হয়। তবে দেশের অধিকাংশ স্থানে স্নানের পর মন্দিরের দরজা কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হলেও, কুল্টির এই মন্দিরে রয়েছে এক অনন্য প্রথা—স্নানের পরপরই জগন্নাথদেবকে রথে বসানো হয়। ১০২ বছরের এই ধারাবাহিকতা এই উৎসবকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।
🌼 বৈদিক মন্ত্রে মুখরিত স্নানযজ্ঞ
বুধবারের এই মহাস্নান অনুষ্ঠানে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে জগন্নাথদেবের অভিষেক সম্পন্ন হয়। পবিত্র জল, চন্দন ও ফুল দিয়ে দেবতার স্নান ও শৃঙ্গার করা হয়। পুরো মন্দির চত্বরে “জয় জগন্নাথ” ধ্বনিতে ভরে ওঠে পরিবেশ।
🚩 দূরদূরান্ত থেকে ভক্তদের সমাগম
এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব দেখতে শুধু কুল্টি শিল্পাঞ্চল নয়, পার্শ্ববর্তী ঝাড়খণ্ড থেকেও বিপুল সংখ্যক ভক্ত প্রতি বছর এখানে আসেন। সকলেই জগন্নাথদেবের দর্শন করে সুখ, সমৃদ্ধি ও মনোবাসনা পূরণের প্রার্থনা করেন।

✨ আস্থা ও উৎসবের এক মহামিলন
মন্দির প্রাঙ্গণে সকাল থেকেই ছিল ভক্তদের দীর্ঘ লাইন। নারী, পুরুষ, শিশু—সবাই অংশ নেন এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে। ভজন, কীর্তন এবং শঙ্খধ্বনি পুরো পরিবেশকে আরও পবিত্র করে তোলে।
🔔 রথযাত্রার অপেক্ষায় ভক্তরা
স্নানযাত্রার মধ্য দিয়ে এখন রথযাত্রার কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ বছরও রথযাত্রা আরও জাঁকজমকপূর্ণভাবে আয়োজন করা হবে, যাতে আরও বেশি ভক্ত অংশ নিতে পারেন।
👉 কুল্টির এই ঐতিহ্যবাহী স্নানযাত্রা আবারও প্রমাণ করল—সময়ের স্রোত বয়ে গেলেও আস্থা ও সংস্কৃতি আজও সমানভাবে শক্তিশালী।
⚠️ ১০২ বছরের এই প্রাচীন প্রথা আজও ভক্তদের হৃদয়ে একই আবেগে বেঁচে রয়েছে—এটাই তার আসল মাহাত্ম্য।


