“শিক্ষা ব্যবসা হতে দেব না”—মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তা

কলকাতা: রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার বিকাশ ভবনে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর তিনি ঘোষণা করেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে কঠোর নজরদারি চালানো হবে। নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলা এবং নিয়ন্ত্রিত ফি কাঠামো বজায় রাখলেই ভবিষ্যতে তাদের অনুমোদন বা ছাড়পত্র দেওয়া হবে।

এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, রাজ্যের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, স্কুল শিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মনসহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিক এবং দিল্লি থেকে আগত প্রতিনিধিরা। বৈঠকে জাতীয় শিক্ষা নীতির আওতায় শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কড়া নজরদারি

মুখ্যমন্ত্রী জানান, যেসব বেসরকারি স্কুল-কলেজ ইতিমধ্যে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) পেয়েছে, সেগুলিতেও পরিদর্শন করা হবে। ফি কাঠামো ও অন্যান্য পরিষেবা সন্তোষজনক না হলে ভবিষ্যতে তাদের অনুমতি দেওয়া হবে না। সরকার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়, তবে শিক্ষার মান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।

শিক্ষায় একাধিক সংস্কারের ঘোষণা

প্রায় ৮১ হাজার স্কুলে শীঘ্রই আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। গত তিন বছর ধরে বন্ধ থাকা কম্পোজিট গ্রান্ট এবার আবার চালু হবে। পাশাপাশি ধাপে ধাপে স্কুলগুলিতে গ্যাসে মিড-ডে মিল রান্না, সোলার প্যানেল বসানো, পরিষ্কার শৌচালয় এবং আর্সেনিকমুক্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হবে।

বীরভূম, বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রাম জেলা থেকে এই প্রকল্প শুরু হবে। যেসব স্কুলে এখনও পাখা নেই, সেখানে পাখা লাগানো হবে। ছাত্রীদের জন্য স্যানিটারি ভেন্ডিং মেশিন বসানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

মেধাভিত্তিক নিয়োগের আশ্বাস

শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে হবে এবং কোনও রাজনৈতিক প্রভাব থাকবে না বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত আইন ইতিমধ্যেই বিধানসভায় পাস হয়েছে এবং পূর্ববর্তী সরকারের ত্রুটিগুলি সংশোধন করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে চলা পুরনো মামলাও প্রত্যাহার করার কথা জানানো হয়েছে, যাতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার বাধা দূর হয়।

স্কুল পরিচালনায় অভিভাবকদের অংশগ্রহণ

স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটিতে অভিভাবকদের আরও বড় ভূমিকা দেওয়ার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে সভাপতি বা সহ-সভাপতি পদে অভিভাবকদের নিয়োগের জন্য আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আইএসকন-এর হাতে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব

আগস্ট মাস থেকে কলকাতায় মিড-ডে মিলের দায়িত্ব আইএসকন গ্রহণ করবে বলে জানানো হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতি ছাত্রের জন্য ১০ টাকা বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে।

আইআইইএসটি শিবপুরকে আইআইটি মর্যাদা দেওয়ার আলোচনা

বৈঠকে আইআইইএসটি শিবপুরকে আইআইটি মর্যাদা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার জানান, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেলে কেন্দ্র তা বিবেচনা করবে।

শিক্ষার ভবিষ্যৎ কোন পথে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপগুলি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। এখন দেখার বিষয়, এই ঘোষণাগুলি কত দ্রুত বাস্তব রূপ পায় এবং শিক্ষার্থীরা তার সুফল কতটা পায়।

Leave a comment