এক রাতেই একাধিক চুরি! রূপনারায়ণপুরের হঠাৎ কলোনিতে আতঙ্কের ছায়া

সালানপুর (পশ্চিম বর্ধমান): এক রাতেই একাধিক চুরির ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে সালানপুর থানার অন্তর্গত রূপনারায়ণপুর ফাঁড়ির হঠাৎ কলোনি এলাকায়। বন্ধ বাড়ি থেকে শুরু করে স্থানীয় মন্দির—কোথাও রেহাই দেয়নি দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনায় গোটা এলাকাজুড়ে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, সঙ্গে বাড়ছে ক্ষোভও।

🏠 ফাঁকা বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরি

স্থানীয় বাসিন্দা রঞ্জিত প্রসাদ বর্তমানে তাঁর স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য দিল্লিতে রয়েছেন। এই সুযোগে চোরেরা তাঁর বাড়ির মূল দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়ে।
ঘরের প্রতিটি কক্ষ তছনছ করে দেয় দুষ্কৃতীরা এবং আলমারির তালা ভেঙে সোনা-রুপোর গয়না লুট করে নিয়ে যায়।

🛕 মন্দিরেও চোরদের হামলা

চোরদের দুঃসাহস এখানেই শেষ হয়নি। বাড়ির কাছেই অবস্থিত বজরংবলী মন্দির, শিব মন্দির এবং কালী মন্দিরকেও টার্গেট করা হয়।
বিশেষ করে কালী মন্দির ও বজরংবলী মন্দিরের দানপেটি ভেঙে ভিতরের নগদ অর্থ লুট করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই দানপেটিগুলি বছরে মাত্র একবার খোলা হতো।

😨 সকালে চাঞ্চল্যকর দৃশ্য

রঞ্জিত প্রসাদের শ্যালক রিঙ্কু সাও জানান, রাত প্রায় ১২টা পর্যন্ত সব কিছু স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু সকালে তাঁর মা বাড়ির দরজা খোলা দেখতে পান।
ঘরে ঢুকে দেখা যায়, সমস্ত জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে রয়েছে এবং আলমারি ভাঙা।

❗ রহস্যময় চিহ্নে আতঙ্ক

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, চুরি গেছে রুপোর নূপুর, কিছু রুপোর গয়না এবং একটি সোনার নাকফুল।
রিঙ্কু সাওয়ের দাবি, চোরেরা বাড়ির বাইরে একটি ‘ক্রস’ চিহ্ন এঁকে রেখে গেছে, যা নিয়ে এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

🚪 আরেক বাড়িতে চেষ্টাও ব্যর্থ

একই রাতে পাশের আরও একটি বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করেছিল দুষ্কৃতীরা। তবে সেখানে ইন্টার-লক সিকিউরিটি ব্যবস্থা থাকায় তারা ব্যর্থ হয়।

🚨 ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকা, পুলিশের কাছে দাবি

এই ধরনের ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে মন্দিরের দানপেটি ভাঙার ঘটনায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
খবর পেয়ে রূপনারায়ণপুর ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে।

👉 এলাকাবাসীর একটাই দাবি—
রাত্রিকালীন পুলিশ টহল বাড়ানো হোক, দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার করা হোক এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হোক।

✨ বড় প্রশ্ন

👉 যেখানে বাড়ি আর মন্দির—দুটোই নিরাপদ নয়, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?

হঠাৎ কলোনির এই ঘটনা শুধু চুরি নয়, বরং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর বড় প্রশ্ন তুলে দিল। এখন দেখার বিষয়, পুলিশ কত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এই আতঙ্ক কাটাতে পারে।

Leave a comment