তারাতলায় ভয়াবহ বিপর্যয়! ভেঙে পড়া বিমে রক্ত-মাংসের চিহ্ন, আতঙ্ক ছড়াল শহরে

কলকাতা: শহরের তারাতলা এলাকায় বুধবার দুপুরে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। নির্মীয়মাণ একটি বিশাল গুদাম হঠাৎ করেই ধসে পড়ায় মুহূর্তে তৈরি হয় বিভীষিকাময় পরিস্থিতি। এখন পর্যন্ত ১৩ জন শ্রমিককে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে আরও বহু শ্রমিক এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনাস্থলের দৃশ্য ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক। বিশাল লোহার বিমগুলোর উপর রক্ত ও মাংসের চিহ্ন দেখা যায়, যা দুর্ঘটনার ভয়াবহতার সাক্ষ্য বহন করছে। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক, কান্না ও আর্তনাদ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দেড় বছর ধরে এই গুদামের নির্মাণ কাজ চলছিল। বুধবার দুপুরে হঠাৎ বহু তলা উঁচু ছাদ ভেঙে পড়ে। সেই সময় বহু শ্রমিক সেখানে কাজ করছিলেন। জানা যাচ্ছে, লোহার কাঠামোর উপর কংক্রিট ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। এলাকাবাসীর দাবি, সকাল থেকেই কাঠামোয় অস্বাভাবিক কম্পন অনুভূত হচ্ছিল। কয়েকজন শ্রমিক বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এগিয়ে যান, ঠিক সেই সময়ই ধসে পড়ে পুরো ছাদ।

দুপুর ১২টার পর দমকল বিভাগে খবর পৌঁছায়। সঙ্গে সঙ্গে একাধিক দমকল ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। পাশাপাশি ভারতীয় সেনা ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)-এর দলও উদ্ধারকাজে যোগ দেয়।

ধ্বংসস্তূপ সরাতে ব্যবহার করা হচ্ছে হাইড্রোলিক ক্রেনসহ একাধিক ভারী যন্ত্র। প্রথমে পেছন দিক থেকে মাটি সরিয়ে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করা হলেও তাতে সফলতা মেলেনি। পরে উপরের অংশে লোহার বিম কেটে একটি ফাঁকা জায়গা তৈরি করা হয়, যাতে ভিতরে বাতাস পৌঁছায় এবং আটকে পড়া শ্রমিকদের কাছে জল পৌঁছে দেওয়া যায়।

এই ফাঁকা জায়গা দিয়ে উদ্ধারকর্মীরা ভিতরে আটকে থাকা শ্রমিকদের দেখতে পান, যাদের মধ্যে মহিলারাও রয়েছেন। এক মহিলাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন দিক থেকে উদ্ধার অভিযান জোরকদমে চালানো হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এই জমি বন্দর কর্তৃপক্ষের, যা একটি চা কোম্পানিকে লিজে দেওয়া হয়েছিল। সেই সংস্থাই গুদাম নির্মাণের কাজ করছিল। খবর পাওয়া গেছে, গুদামের ঠিকাদারও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারেন।

হাজার হাজার বর্গফুট জুড়ে থাকা এই গুদামের ভেতরে শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থাও ছিল। দুর্ঘটনার সময় কে কোথায় ছিলেন, তা জানতে স্থানীয় নিরাপত্তারক্ষীদের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।

এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয় ঠিক কতজন শ্রমিক মাটির নিচে চাপা পড়ে রয়েছেন। পুরো এলাকা জুড়ে আতঙ্কের আবহ, আর সবার চোখ এখন উদ্ধার অভিযানের দিকে—কবে মিলবে আরও জীবনের সন্ধান।

Leave a comment