কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে শিল্প বিনিয়োগ নিয়ে বড়সড় আশার বার্তা দিলেন রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী তাপস রায়। তিনি জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই ৪২ জন শিল্পপতি রাজ্যে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাঁদের প্রয়োজনীয় সমস্ত সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
নবান্ন সূত্রে খবর, চলতি বাজেট অধিবেশনেই শিল্প বিনিয়োগ নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করতে পারে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে গঠিত সরকার শুরু থেকেই শিল্পোন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছে, আর এবার সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব রূপ দেখা যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্রের দাবি, বিনিয়োগ বাড়াতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেও সরাসরি হস্তক্ষেপ করছেন এবং শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রশাসনকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলেই ধীরে ধীরে রাজ্যে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
উল্লেখযোগ্যভাবে, পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার গঠনের পর রাজ্যের শিল্প ও অর্থনীতির পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে কেন্দ্র সরকার নীতি আয়োগকে একটি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার খসড়া তৈরির দায়িত্ব দেয়। উপाध्यक्ष অশোক লাহিড়ীর নেতৃত্বে সেই কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।
এক সময় জিডিপির নিরিখে দেশের দ্বিতীয় সমৃদ্ধ রাজ্য ছিল পশ্চিমবঙ্গ। তবে দীর্ঘদিনের অবনমন, শ্রমিক রাজনীতি, প্রশাসনিক জটিলতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে রাজ্য বর্তমানে ষষ্ঠ স্থানে নেমে এসেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য নতুন সরকার শিল্পায়নকে হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরেছে।
এই প্রেক্ষাপটে ৪২ জন শিল্পপতির বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ রাজ্যের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হয়, তবে রাজ্যে শিল্পোন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে।
প্রসঙ্গত, আগামী ২২ জুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার তাদের প্রথম পূর্ণ বাজেট পেশ করতে চলেছে। দুপুর ১২টায় অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট বিধানসভায় উপস্থাপন করবেন।
এই বাজেটকে ঘিরে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, কৃষি এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে সরকারের ভবিষ্যৎ রূপরেখা কী হবে, তার দিকেই এখন সবার নজর।
সব মিলিয়ে, ২২ জুনের বাজেট পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

