কুল্টি: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের ফর্ম সংগ্রহ করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হলেন কুল্টি এলাকার শতাধিক মহিলা। আসানসোল পৌর নিগমের অধীনে কুল্টি বরো অফিসে মঙ্গলবার সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ফর্ম না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মহিলারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোর থেকেই বহু মহিলা বরো অফিসের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কারও সঙ্গে ছিল ছোট শিশু, কেউ আবার রোদে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেছেন শুধুমাত্র একটি ফর্ম পাওয়ার আশায়। কিন্তু হঠাৎ করেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আর কোনও অফলাইন ফর্ম দেওয়া হবে না। এখন থেকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম শুধুমাত্র অনলাইনে পূরণ করতে হবে।
এই আকস্মিক ঘোষণায় হতবাক হয়ে পড়েন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মহিলারা। এক ক্ষুব্ধ মহিলা বলেন, “গতকাল আমার মা সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়েও ফর্ম পাননি। তাই আজ ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। এখন বলা হচ্ছে অফলাইন বন্ধ! তাহলে আমাদের এতক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখার মানে কী?”

ঘটনার জেরে বরো অফিস চত্বরে চরম বিশৃঙ্খলা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অনেকেই অভিযোগ করেন, আগে থেকে কোনও ঘোষণা না করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সাধারণ মানুষকে অযথা হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
এদিকে বিজেপি নেতা টিঙ্কু বর্মা জানান, মঙ্গলবার থেকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেই কারণে অফলাইন ফর্ম বিতরণ বন্ধ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, মন্ত্রী ডাঃ অজয় পোদ্দারের নির্দেশে বিজেপি কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সাধারণ মানুষকে অনলাইনে ফর্ম পূরণে সাহায্য করছেন।
তবে বাস্তব চিত্রটা ভিন্ন। এলাকার বহু মহিলা এখনও ডিজিটাল পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত নন। স্মার্টফোনের অভাব, ইন্টারনেট সমস্যা এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞানের ঘাটতি—সব মিলিয়ে সমস্যার পাহাড় তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, প্রশাসন যদি আগে থেকেই এই পরিবর্তনের কথা জানাত এবং পর্যাপ্ত সহায়তা কেন্দ্র গড়ে তুলত, তাহলে এমন বিশৃঙ্খলা তৈরি হত না।
এখন কুল্টির বাসিন্দারা অপেক্ষা করছেন—এই বিভ্রান্তি কবে কাটবে এবং কবে স্বাভাবিকভাবে ফর্ম পূরণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। আপাতত, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আশায় আসা মহিলাদের চোখে শুধু হতাশা আর ক্ষোভই স্পষ্ট।















