আসানসোলে জমি দখল নিয়ে তুমুল বিতর্ক! দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বিস্ফোরক অভিযোগ

single balaji

আসানসোল: পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল পুরনিগমের ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত আব্দুল লতিফ লেন এলাকায় একটি জমি নিয়ে তীব্র বিতর্ক সামনে এসেছে। অবৈধ দখল ও নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ, যা এখন আইনি লড়াইয়ের রূপ নিয়েছে।

গোবিন্দ শর্মা নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন যে দাগ নম্বর ২৪৩৬১ এবং হোল্ডিং নম্বর ৩৯/৪০ সংক্রান্ত তার জমিতে নরেশ কেডিয়া, বিনোদ কেডিয়া এবং পুষ্পা দেবী কেডিয়া অবৈধভাবে দখল নিয়ে নির্মাণ কাজ চালিয়েছেন। তার দাবি, অভিযুক্তরা প্রথমে ওই জায়গায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন, কিন্তু পরবর্তীতে তারা বেআইনিভাবে জমি ও বাড়ির দখল নিয়ে নেন এবং সেখানে স্থায়ী নির্মাণ করেন।

গোবিন্দ শর্মা জানান, তিনি এই বিষয়ে পূর্বে পুরনিগম ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু কোনও সুরাহা না হওয়ায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। তার দাবি, ১৮ মে ২০২৬ সালে হাই কোর্ট থেকে ওই অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে এখনও পর্যন্ত সেই নির্দেশ কার্যকর করা হয়নি বলে অভিযোগ।

WhatsApp Image 2026 05 31 at 16.13.03

তিনি পুরনিগমের কাছে আবেদন করেছেন, আদালতের নির্দেশ মেনে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিয়ে তার জমি ফিরিয়ে দেওয়া হোক।

অন্যদিকে, নরেশ কেডিয়া সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি গোবিন্দ শর্মাকে ‘জমি মাফিয়া’ বলে আখ্যা দিয়ে দাবি করেছেন যে তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন। তার বক্তব্য, যে দাগ নম্বর ও হোল্ডিং নম্বরের কথা বলা হচ্ছে, তার সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই।

নরেশ কেডিয়া আরও বলেন, বহু বছর আগে শুধুমাত্র কাগজে-কলমে কিছু হোল্ডিং নম্বর দেখিয়ে জমির ভাগাভাগি দেখানো হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে সেই নম্বরগুলির অনেকগুলির কোনও অস্তিত্ব নেই। তিনি এটাও দাবি করেছেন যে গোবিন্দ শর্মার ভাড়াটিয়া থাকার কথাও সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং তার কাছে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি রয়েছে।

তিনি জানান, পুরনিগমের তরফ থেকে একটি নোটিস পেলেও তাতে যে হোল্ডিং নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে, তা তার সম্পত্তির নয়। এই বিষয়টি নিয়েও তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং উল্টে গোবিন্দ শর্মার বিরুদ্ধেই অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ তুলেছেন।

বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। বিষয়টি বিচারাধীন হওয়ায় প্রশাসনও পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও কৌতূহল ও উদ্বেগ বাড়ছে—শেষ পর্যন্ত কার দাবি সত্য প্রমাণিত হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

ezgif 22b6a523914e707e 300x300 1
ghanty

Leave a comment