আসানসোলের কোর্ট মোড় এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর মৌসুমি বোস-এর অফিসে আগুন লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই সামনে এল এক চমকপ্রদ মোড়। যে ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, সেই অফিসের পুনর্গঠনের দায়িত্ব এখন নিজেরাই তুলে নিয়েছে বিজেপি কর্মীরা।
ঘটনার দিন আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখার্জি ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, এটি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং বিজেপির নাম জড়িয়ে পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা চলছে।
🔥 দু’দিন পর বদলে গেল ছবি
আগুন লাগার মাত্র দু’দিন পরেই এলাকায় দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃশ্য। পোড়া অফিসঘরে বিজেপি কর্মীরা নিজেরাই মেরামত ও পুনর্নির্মাণের কাজে হাত লাগিয়েছেন। এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তাঁদের দল কখনও হিংসা বা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। বরং গণতন্ত্রে সব রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব থাকা জরুরি এবং পারস্পরিক সহাবস্থানই প্রকৃত রাজনীতির পরিচয়।
🛠️ “নিজেদের খরচে গড়ছি”—বিজেপি নেতা
আসানসোল উত্তর বিধানসভা এলাকার বিজেপি মণ্ডল নেতা অঙ্কুর রায় জানিয়েছেন, কিছু দুষ্কৃতী এই আগুন লাগানোর ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। তবে বিজেপি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভাজনের রাজনীতি নয়, বরং শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা দিতে চায়।
তিনি বলেন, “আমাদের কর্মীরাই নিজেদের খরচে কাউন্সিলরের অফিসটি নতুন করে গড়ে তুলছে। আমরা দেখাতে চাই, রাজনীতি মানে শুধু বিরোধ নয়—মানুষকে একত্রিত করার দায়িত্বও।”
⚖️ রাজনীতিতে জোর চর্চা
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসানসোল জুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক আলোচনা। একদিকে আগুন লাগানো নিয়ে চলছে অভিযোগ-প্রত্যঅভিযোগ, অন্যদিকে বিজেপির এই পদক্ষেপ নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করছে।
অনেকেই এই উদ্যোগকে ইতিবাচক রাজনীতির নিদর্শন হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে কৌশলগত পদক্ষেপ বলেও মনে করছেন।
🧩 বড় প্রশ্ন উঠছে
এই ঘটনাকে ঘিরে এখন বড় প্রশ্ন—এটি কি সত্যিই সম্প্রীতির বার্তা, নাকি এর পিছনে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক কৌশল?
আসানসোলের এই ঘটনা এখন আর শুধুমাত্র একটি আগুন লাগার ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি রাজনীতির নতুন দিশা ও জনমানসের ভাবনার প্রতিফলন হয়ে উঠেছে।















