নয়াদিল্লি / পাটনা / ভুবনেশ্বর: দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত রাজ্যসভা নির্বাচন ২০২৬-এর ফলাফল সামনে আসতে শুরু করেছে। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, বিহারে পাঁচটি আসনেই এনডিএ জোটের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন, অন্যদিকে ওড়িশার চারটি আসনের মধ্যে তিনটি বিজেপির দখলে এবং একটি বিজু জনতা দলের ঝুলিতে গেছে।
এই ফলাফলকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, কারণ এতে রাজ্যসভায় এনডিএ জোটের শক্তি আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিহারে এনডিএর পাঁচ আসনে জয়
বিহারের পাঁচটি রাজ্যসভা আসনের ভোটগণনা সম্পূর্ণ হওয়ার পর ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। সবকটি আসনেই এনডিএ জোটের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।
জয়ী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—
- নীতীশ কুমার (জনতা দল ইউনাইটেড)
- রামনাথ ঠাকুর (জনতা দল ইউনাইটেড)
- নিতিন নবীন (ভারতীয় জনতা পার্টি)
- শিবেশ কুমার (ভারতীয় জনতা পার্টি)
- উপেন্দ্র কুশওয়াহা (জাতীয় লোক মোর্চা)
পঞ্চম আসনটি নিয়ে এনডিএ সমর্থিত উপেন্দ্র কুশওয়াহা এবং রাষ্ট্রীয় জনতা দলের অমরেন্দ্র ধারি সিং-এর মধ্যে সরাসরি লড়াইয়ের সম্ভাবনা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই আসনটিও এনডিএর দখলে যায়।
মহাগঠবন্ধনের কৌশল ভেস্তে গেল
সূত্রের খবর অনুযায়ী, কংগ্রেসের তিনজন এবং রাষ্ট্রীয় জনতা দলের একজন বিধায়ক ভোট দেননি, যার ফলে মহাগঠবন্ধনের পরিকল্পনা সম্পূর্ণ ভেস্তে যায়।
এই ঘটনাই শেষ পর্যন্ত বিহারে এনডিএর পাঁচটি আসনেই জয় নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা পালন করে।
ওড়িশায় বিজেপির শক্তিশালী ফল
অন্যদিকে ওড়িশায় রাজ্যসভা নির্বাচনের চারটি আসনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি আসন বিজেপির ঝুলিতে গেছে, আর একটি আসন পেয়েছে বিজু জনতা দল।
বিজেপির পক্ষ থেকে মনমোহন সামল এবং সুজিত কুমার সংখ্যার নিরিখে আগেই এগিয়ে ছিলেন। অন্যদিকে বিজু জনতা দলের পক্ষ থেকে সন্তৃপ্ত মিশ্রও শক্ত অবস্থানে ছিলেন।
ক্রস ভোটিংয়ে চমকপ্রদ ফল
সবচেয়ে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয় চতুর্থ আসনকে কেন্দ্র করে। রাজনৈতিক সমীকরণ অনুযায়ী এই আসনটি বিজু জনতা দল–কংগ্রেস জোটের দিকে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছিল।
কিন্তু ভোটের সময় ১১ জন বিধায়কের ক্রস ভোটিং পুরো সমীকরণ পাল্টে দেয়।
এর ফলেই বিজেপি সমর্থিত প্রার্থী দিলীপ রায় শেষ পর্যন্ত জয়ী হন এবং জোট প্রার্থী ডক্টর দত্তেশ্বর হোতা পরাজিত হন।
বাড়ল রাজনৈতিক চর্চা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল রাজ্যসভায় ক্ষমতার সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে বিহার ও ওড়িশার এই ফলাফল প্রমাণ করেছে যে ক্রস ভোটিং অনেক সময় বড় রাজনৈতিক সমীকরণও বদলে দিতে পারে।
ফলাফল ঘোষণার পর এখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।














