আসানসোল, পশ্চিম বর্ধমান:
রঙের উৎসব হোলির আনন্দ মুহূর্তেই আতঙ্কে পরিণত হল আসানসোলের কুলটি এলাকায়। কুলটির ৬৮ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত করিম ডাঙ্গাল এলাকায় হঠাৎ করেই বোমাবাজি, কথিত গুলিচালনা এবং ইট-পাটকেল ছোড়ার ঘটনায় গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে। ঘটনায় চরম ভীতির সঞ্চার হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এলাকার একটি মসজিদের বাইরে কিছু যুবক আচমকা হট্টগোল ও ভাঙচুর শুরু করে। মসজিদের সামনে থাকা ডাস্টবিন ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যে বোমার শব্দ, ইট-পাটকেল এবং কথিত গুলির আওয়াজে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে চরম বিশৃঙ্খলা।
ঘটনার খবর পেয়ে কুলটি থানার পাশাপাশি বরাকর থানার পুলিশ বিশাল বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বর্তমানে এলাকায় কড়া পুলিশি নজরদারি চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী ভারতীয় জনতা পার্টি একে অপরের বিরুদ্ধে অশান্তি উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ সংক্ষিপ্ত পুনর্নিরীক্ষণ (এসআইআর) প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা হতে পারে। নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে রুট মার্চ চলছে। এমন সংবেদনশীল সময়ে কুলটির এই ঘটনা নির্বাচন-পূর্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর বহু দোকানপাট সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েন। যদিও প্রশাসনের দাবি, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে এবং দোষীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
হোলির মতো উৎসবের দিনে এই ধরনের ঘটনা শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নই তোলে না, বরং সামাজিক সম্প্রীতির ওপরও বড় আঘাত হানে। এখন দেখার, তদন্তে কী উঠে আসে এবং প্রশাসন ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি রোধে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।














