আসানসোল নগরনিগম ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট প্রস্তাব পেশ করেছে। এই বাজেটে পরিকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা শক্তিশালীকরণ এবং পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পুরপরিষদের অনুমোদনের জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই শহর জুড়ে বাজেট ঘিরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
🛣️ রাস্তা, নিকাশি ও আলোয় কোটি টাকার বরাদ্দ
পাবলিক ওয়ার্কস বিভাগের অধীনে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে—
- ৮৭.৮৭ কোটি টাকা রাস্তা নির্মাণ ও মেরামতে
- ৩২.৩৯ কোটি টাকা নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতিতে
- ২৮.৪৫ কোটি টাকা স্ট্রিট লাইট ও বিশেষ স্থানে আলোকসজ্জায়
- ৩০.৪০ কোটি টাকা জল সরবরাহ প্রকল্পে
এছাড়াও এ কিউ এম প্রকল্পের আওতায় আলাদা করে রাস্তা নির্মাণে অর্থ ব্যয় ধরা হয়েছে। দীর্ঘদিনের খারাপ রাস্তা ও জলজমার সমস্যার সমাধানে এই বরাদ্দ বড় ভূমিকা নেবে বলে দাবি পুরনিগমের।
🏘️ ‘আমার পাড়া, আমার সমাধান’—ওয়ার্ডভিত্তিক উন্নয়নে জোর
মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগ ‘আমার পাড়া, আমার সমাধান’ প্রকল্পের আওতায় শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সিভিল ও বৈদ্যুতিক কাজে প্রায় ১০২.৯১ কোটি টাকা ব্যয়ের উল্লেখ রয়েছে। পুরনিগমের দাবি, স্থানীয় সমস্যার দ্রুত সমাধান করাই এই প্রকল্পের লক্ষ্য, ফলে নাগরিকদের হয়রানি কমছে।
🌿 গ্রিন বিল্ডিংয়ে ১০% পর্যন্ত করছাড়
পরিবেশবান্ধব নির্মাণে উৎসাহ দিতে শক্তি-সাশ্রয়ী নকশা, বৃষ্টির জল সংরক্ষণ, সৌরশক্তি ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব উপকরণ গ্রহণকারী ভবনকে ‘গ্রিন বিল্ডিং’ স্বীকৃতি দিয়ে ন্যূনতম ১০% করছাড় দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
শহরকে দূষণমুক্ত ও টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে এটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
🏚️ জরাজীর্ণ বাড়িতে কড়াকড়ি, নতুন নির্মাণে ছাড়
শহরের বিপজ্জনক ও জরাজীর্ণ ভবন চিহ্নিত করে ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ওই জায়গায় নতুন নির্মাণে সাইট প্ল্যান ফিতে ২০% পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এতে নিরাপদ ও আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার পথ সুগম হবে।
👵 সামাজিক প্রকল্পে হাজার হাজার উপভোক্তা
- ন্যাশনাল সোশ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স স্কিমে প্রায় ২২ হাজার মানুষ পেনশন পাচ্ছেন।
- ‘জয় বাংলা’ প্রকল্পে প্রবীণ, বিধবা ও বিশেষভাবে সক্ষম নাগরিকরা আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন।
- ক্যান্সার ও কিডনি রোগীদের লক্ষাধিক টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
- ‘শিক্ষা মিত্র ডে মিল’ প্রকল্পে প্রায় ৯৯ হাজারের বেশি ছাত্রছাত্রী উপকৃত হচ্ছে।
এই প্রকল্পগুলি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের আর্থিক সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
🏥 স্বাস্থ্য পরিষেবার বিস্তার, আরও ৩৩ কেন্দ্রের প্রস্তাব
পুরনিগম এলাকায় বর্তমানে ২৬টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছে। পাশাপাশি ৭টি আরবান হেলথ অ্যান্ড ওয়েলনেস সেন্টার চালু রয়েছে এবং আরও ৩৩টি কেন্দ্র খোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ, টিকাকরণ কর্মসূচি, মাতৃ ও শিশুসেবায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিট চালুর ভাবনাও রয়েছে।
🚌 ফাস্ট ট্র্যাক অনুমোদন ও নাইট বাস পরিষেবা
বিল্ডিং প্ল্যান, মিউটেশন, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন অনুমোদনের ক্ষেত্রে ফাস্ট ট্র্যাক সিস্টেম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে নাগরিক পরিষেবা দ্রুত পাওয়া যাবে।
রাতের যাত্রীদের সুবিধার্থে নাইট বাস পরিষেবা চালুর প্রস্তাবও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
🐾 পশু কল্যাণ ও পরিচ্ছন্নতায় জোর
পিপিপি মডেলে অ্যানিমাল শেল্টার সহ চিকিৎসা কেন্দ্র এবং অ্যানিমাল ক্রিমেটোরিয়াম গড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সাফাই বিভাগে প্রায় ২৮০০ কর্মী নিযুক্ত রয়েছেন এবং শতাধিক আবর্জনা সংগ্রহকারী গাড়ির মাধ্যমে শহর পরিষ্কার রাখার দাবি করা হয়েছে। বর্জ্য পৃথকীকরণ ও ডোর-টু-ডোর সংগ্রহ আরও জোরদার হবে।
💰 রাজস্ব বৃদ্ধির কৌশল
ট্রেড লাইসেন্স, বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন, পার্কিং ফি ও বিজ্ঞাপন বাবদ রাজস্ব বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। অনলাইন পেমেন্ট ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং চালু করে স্বচ্ছতা বাড়ানোর উদ্যোগও রয়েছে।
শেষকথা
আসানসোল নগরনিগমের ২০২৬-২৭ বাজেট উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে। রাস্তা, জল, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ—এই চার স্তম্ভকে কেন্দ্র করে তৈরি এই বাজেট শহরের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের রূপরেখা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এখন দেখার বিষয়, পুরপরিষদের অনুমোদনের পর বাস্তবে কত দ্রুত এই প্রকল্পগুলি কার্যকর হয়। সফল বাস্তবায়ন হলে আসানসোল পূর্ব ভারতের অন্যতম আধুনিক নগরী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।














