পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হল সোমবার থেকে। বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কর্মসূচির আওতায় ভোটার তালিকায় জমা পড়া দাবি ও আপত্তির পূর্ণাঙ্গ বিচার বিভাগীয় স্ক্রুটিনি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ার জন্য কলকাতা হাইকোর্ট-এর নির্দেশে রাজ্যজুড়ে ১৫০ জন সেশনস জজ ও ২৫০ জন বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে নিয়োগ করা হয়েছে।
🏛️ জেলাভিত্তিক নজরদারিতে তিন সদস্যের বিশেষ কমিটি
ভোটার তালিকা যাচাই প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখতে প্রতিটি জেলায় গঠন করা হয়েছে একটি করে তিন সদস্যের মনিটরিং কমিটি। এই কমিটিতে থাকছেন জেলা জজ, জেলা শাসক (ডিএম) এবং সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার। প্রশাসনিক ও বিচারিক সমন্বয়ের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন দপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ বা তথ্যগত অসামঞ্জস্য হিসেবে চিহ্নিত মামলাগুলির নথি যাচাইয়ের কাজ বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এই সব নথিই বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের কাছে পাঠানো হয়েছে বিস্তারিত পরীক্ষার জন্য।
📅 ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ পাবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। তবে যেসব ভোটারের নথি বিচার বিভাগীয় যাচাইয়ের আওতায় রয়েছে, তাঁদের নাম আপাতত মূল তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। পরে যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তাঁদের জন্য আলাদা সম্পূরক তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।
প্রশাসনিক সূত্রের অনুমান, প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লক্ষ ভোটারের নথি এই বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধানের আওতায় আসতে পারে। মূলত তথ্যগত অসামঞ্জস্য, ঠিকানা, পরিচয় ও নথিপত্রের বিভ্রান্তি সংক্রান্ত অভিযোগই এই বিশাল যাচাইয়ের কেন্দ্রে রয়েছে।
⚖️ সুপ্রিম কোর্টের কড়া অবস্থানের পর বড় বৈঠক
এই সংবেদনশীল বিষয়টি নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট-এর কড়া অবস্থানের পর পরিস্থিতি আরও গুরুত্ব পায়। এরপর কলকাতার জেসপ ভবনে বিচারপতি ও নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জটিল ও বিতর্কিত মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একটি বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
👨⚖️ সাত অবসরপ্রাপ্ত বিচারকের বিশেষ প্যানেল
জটিল মামলা ও তথ্যগত অসামঞ্জস্য নিরসনের জন্য সাতজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারককে নিয়ে একটি বিশেষ প্যানেল গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্যানেল মূলত কঠিন ও বিতর্কিত নথি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত মতামত দেবে, যাতে ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে কোনও ত্রুটি না থাকে।
📊 গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার বার্তা
নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, এত বড় আকারে বিচার বিভাগীয় স্ক্রুটিনি চালু হওয়া গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই উদ্যোগের ফলে ভুয়ো নাম, দ্বৈত এন্ট্রি এবং তথ্যগত ভুল কমবে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনে আরও নির্ভুল ভোটার তালিকা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
রাজনৈতিক মহলেও এই পদক্ষেপ নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এত বৃহৎ পরিসরে বিচার বিভাগীয় নজরদারির মাধ্যমে ভোটার তালিকা সংশোধন পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।











