পশ্চিমবঙ্গে বড়সড় নিরাপত্তা অভিযানে চাঞ্চল্য ছড়াল রাজ্য জুড়ে। রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর এলাকা থেকে পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক মহল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গন—সবখানেই তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর, ধৃত যুবকের গতিবিধি দীর্ঘদিন ধরেই নজরে রেখেছিল গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন, তার যোগাযোগ পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে থাকতে পারে। ইতিমধ্যেই তার মোবাইল, ডিজিটাল তথ্য এবং যোগাযোগের নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে বৃহত্তর কোনও গুপ্তচর চক্রের যোগ আছে কি না তা স্পষ্ট হয়।
🏛️ সরকারের বিরুদ্ধে বিজেপির তীব্র আক্রমণ
এই গ্রেফতারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও চরমে উঠেছে। রাজ্য বিজেপি সভাপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ সমীক ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে অভিযুক্তের সম্ভাব্য যোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি দাবি করেন, এর আগেও রাজ্য থেকে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেফতারির ঘটনা সামনে এসেছে, যা জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলছে।
অন্যদিকে, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও রাজ্য সরকারের সমালোচনা করে বলেন, বাংলায় উগ্রপন্থী কার্যকলাপ বেড়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি।
🚨 জঙ্গি মডিউল ভাঙল দিল্লি পুলিশ, ৮ সন্দেহভাজন গ্রেফতার
এদিকে একই সময়ে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল ১০ দিনের একটি গোপন অভিযানে লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে যুক্ত একটি জঙ্গি মডিউলের পর্দাফাঁস করেছে। এই অভিযানে মোট আটজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে সাতজনকে বাংলাদেশি নাগরিক বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ু জুড়ে এই অভিযান চালানো হয়। তিরুপ্পুরের গার্মেন্টস কারখানা থেকে মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ শাবাত, উমর, মোহাম্মদ লিটন, মোহাম্মদ শাহিদ এবং মোহাম্মদ উজ্জ্বল নামের ছয় সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
📱 ভুয়ো আধার কার্ডে কাজ, উদ্ধার একাধিক ফোন ও সিম
তদন্তে উঠে এসেছে, গ্রেফতার হওয়া সন্দেহভাজনরা ভুয়ো আধার কার্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন গার্মেন্টস ইউনিটে কাজ করছিল। তাদের কাছ থেকে আটটি মোবাইল ফোন এবং ১৬টি সিম কার্ড উদ্ধার হয়েছে, যা এখন ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
🔍 গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, বড় নেটওয়ার্কের আশঙ্কা
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি গোয়েন্দা সংস্থাগুলির জন্য বড় সতর্কবার্তা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সংস্থার যৌথ সমন্বয়ে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনে আরও গ্রেফতারির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এই ঘটনায় একদিকে যেমন জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, তেমনই বাংলার রাজনৈতিক মহলেও নতুন করে উত্তেজনার আবহ তৈরি হয়েছে।











