আসানসোল:
পশ্চিমবঙ্গে সোমবার থেকে শুরু হয়ে গেল ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষা। পরীক্ষার প্রথম দিনে ছিল বহু প্রতীক্ষিত দ্বিতীয় ভাষার পরীক্ষা, যা নিয়ে পড়ুয়াদের মধ্যে আলাদা উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের উদ্যোগে রাজ্যজুড়ে একাধিক পরীক্ষাকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে, যেখানে কড়া নজরদারি ও নিরাপত্তার মধ্যেই পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।
আসানসোলের গুরু নানক পল্লি এলাকার গুরু নানক মিশন হাই স্কুল-কেও মাধ্যমিক পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। সোমবার সকাল থেকেই এই পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে দেখা যায় ভিন্ন ছবি—পড়ুয়াদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী ও নেতারা।
পরীক্ষা শুরুর আগেই বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে এসে পড়ুয়াদের মধ্যে জলের বোতল ও কলম বিতরণ করেন। পরীক্ষার্থীদের মনোবল বাড়াতে তিনি তাদের শুভেচ্ছা জানান এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরীক্ষা দেওয়ার বার্তা দেন।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্বও একই ধরনের উদ্যোগ নেয়। তৃণমূল নেতারা পড়ুয়াদের হাতে তুলে দেন গোলাপ ফুল, কলম ও পানীয় জল, যাতে পরীক্ষার আগে তাদের মানসিক চাপ কিছুটা হলেও কমে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০২৬ সালেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ফলে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলি সমাজের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নিজেদের উপস্থিতি জানানোর চেষ্টা করছে। মাধ্যমিক পরীক্ষার মতো সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ সময়েও সেই রাজনৈতিক সক্রিয়তা চোখে পড়ছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
অনেক অভিভাবকের মতে, পড়ুয়াদের উৎসাহ দেওয়া অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ, তবে পরীক্ষার দিনে রাজনৈতিক উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্নও উঠছে। তাঁদের একাংশের দাবি, পরীক্ষার সময় পড়ুয়াদের মনোযোগ যেন শুধুমাত্র পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের দিকেই থাকে।
সব মিলিয়ে, মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিন শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। তবে ভোটের বছরে আগামী দিনগুলিতে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলির বাইরে রাজনৈতিক তৎপরতা কতটা বাড়ে, সেদিকেই এখন নজর রাজ্যবাসীর।











