“ওয়াকফ সংশোধনী বিল মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়”—অমিত শাহের দাবি

single balaji

নয়াদিল্লি: সংসদের বাজেট অধিবেশনের শেষ পর্যায়ে, ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল লোকসভায় উত্থাপন করা হয়েছে, যা তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বিলটি সংশোধন সহ উপস্থাপন করেন, যার ফলে সংসদে উত্তপ্ত আলোচনা শুরু হয়। বিরোধীরা দাবি করেছে যে, “এই বিল মুসলিম সম্প্রদায়ের জমির অধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র।”

বিলের মূল পরিবর্তন ও বিতর্ক

বিলটি মূলত ১৯৯৫ সালের ওয়াকফ আইনে সংশোধন আনতে এসেছে। বিজেপি সাংসদ তেজস্বী সূর্য বলেন, “ধারা ৪০-এর মাধ্যমে ওয়াকফ বোর্ড যেকোনো জমির উপর অধিকার দাবি করতে পারত। ভুক্তভোগীদের ওয়াকফ ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হতে হতো, যা কার্যত একতরফা সিদ্ধান্ত নিত।”

অন্যদিকে, বিহারের রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খান বলেছেন, “৯০% ওয়াকফ সম্পত্তির উপর বিতর্ক রয়েছে এবং এগুলি জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে না।”

অমিত শাহের তোপ কংগ্রেসের দিকে

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, “১৯১৩ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত ওয়াকফ বোর্ডের জমির পরিমাণ ছিল ১৮ লাখ একর, যা ২০১৩ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত বেড়ে ৩৯ লাখ একর হয়েছে। কিন্তু, এই জমির ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা কোথায়?”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেস দিল্লির ১২৩টি গুরুত্বপূর্ণ সম্পত্তি ওয়াকফ বোর্ডকে দিয়েছে।”

বিরোধীদের তীব্র আপত্তি

বিরোধী দলগুলি একযোগে এই বিলের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। তৃণমূল, কংগ্রেস, ডিএমকে-সহ একাধিক দল বিলটির তীব্র বিরোধিতা করেছে। তেলেগু দেশম পার্টি (টিডিপি) নেতা প্রম কুমার জৈন বলেন, “ওয়াকফ যদি কোনো সম্পত্তির দাবি করে তবে প্রমাণ ছাড়াই তা তাদের বলে মানতে হবে—এই বিধান অগ্রহণযোগ্য।”

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন প্রধানমন্ত্রী মোদিকে চিঠি লিখে এই বিল প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই বিল সংখ্যালঘুদের স্বার্থের পরিপন্থী এবং সংবিধানের মূল চেতনার পরিপন্থী।”

সংসদ চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত

সংসদের আলোচনার তীব্রতা বাড়ায়, লোকসভার কার্যকাল রাত ১০টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কিরেন রিজিজু।

ওয়াকফ সংশোধনী বিলের ভবিষ্যৎ কী?

সরকারের দাবি, এই সংশোধনী বিল স্বচ্ছতা আনবে ও দুর্নীতি রোধ করবে। তবে বিরোধীরা বলছে, এটি মুসলিম সম্প্রদায়ের জমির অধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র। এখন দেখার বিষয়, বিতর্কের পরও এই বিল সংসদে পাস হয় কি না।

ghanty

Leave a comment