রাণীগঞ্জ: রাণীগঞ্জ থানার অন্তর্গত চিনকোটি মোড় ও চুড়িপট্টি এলাকার মাঝামাঝি একটি মোড়ের কাছে কুড়েদান থেকে একাধিক ভোটার পরিচয়পত্র (ভোটার আইডি কার্ড) উদ্ধার হওয়ায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে এবং প্রশাসনিক অবহেলার অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে।
রাতের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে নজরে আসে ঘটনা
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গভীর রাতে নামাজ আদায় করে কয়েকজন ব্যক্তি বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় রাস্তার ধারে রাখা একটি কুড়েদানে তাঁদের চোখে পড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বহু ভোটার আইডি কার্ড। কাছে গিয়ে দেখলে দেখা যায়, সেখানে প্রায় ২৪ থেকে ২৫টি ভোটার পরিচয়পত্র পড়ে রয়েছে। এর মধ্যে কিছু নতুন এবং কিছু পুরনো কার্ডও ছিল।
ঘটনার খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই আশেপাশের বহু মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়। উদ্ধার হওয়া কার্ডগুলির মধ্যে কয়েকটি স্থানীয় বাসিন্দাদের নামের সঙ্গেও মিল পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজেদের নাম শনাক্ত করলেও স্পষ্ট জানান যে তাঁদের আসল ভোটার আইডি কার্ড তাঁদের কাছেই নিরাপদে রয়েছে। ফলে বড় প্রশ্ন উঠছে—যখন মূল কার্ড তাঁদের কাছেই আছে, তাহলে কুড়েদানে পাওয়া এই কার্ডগুলি এল কোথা থেকে?
ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় ঘটনায় বাড়ল উদ্বেগ
বর্তমানে রাজ্যজুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধন ও নিবন্ধনের কাজ চলমান। এমন সংবেদনশীল সময়ে কুড়েদান থেকে ভোটার আইডি কার্ড উদ্ধার হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোটার নিরাপত্তা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের ঘটনা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর আস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে এবং এর নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত অত্যন্ত জরুরি।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে কার্ড জব্দ করল পুলিশ
ঘটনার খবর পেয়ে রাণীগঞ্জ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সমস্ত উদ্ধার হওয়া ভোটার পরিচয়পত্র নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ ইতিমধ্যেই পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কারা এবং কোন উদ্দেশ্যে এই ভোটার আইডি কার্ডগুলি সেখানে ফেলে গিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্তকারীরা বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন, যাতে বোঝা যায় এটি প্রশাসনিক গাফিলতি, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো পরিকল্পিত উদ্দেশ্য রয়েছে।
তদন্তের দিকেই তাকিয়ে গোটা এলাকা
এই রহস্যজনক ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ও কৌতূহল দুই-ই তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এখন সবার নজর পুলিশের তদন্তের উপরই কেন্দ্রীভূত। তদন্ত শেষ হলেই স্পষ্ট হবে কীভাবে ভোটার পরিচয়পত্রগুলি কুড়েদানে এল এবং এর পেছনে আসল উদ্দেশ্য কী ছিল।











