CAT-এর কড়া অবস্থানের পর বদলাল রেলবোর্ডের সিদ্ধান্ত, মোরাদাবাদের DRM ভিনিতা শ্রীবাস্তব

single balaji

আসানসোল/মোরাদাবাদ:
রেলবোর্ড শনিবার একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করে আসানসোলের প্রাক্তন DRM ভিনিতা শ্রীবাস্তবকে উত্তর রেলের মোরাদাবাদ ডিভিশনের নতুন ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (DRM) হিসেবে নিয়োগ করেছে। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ফের আলোচনায় উঠে এসেছে তাঁর বিতর্কিত বদলি প্রসঙ্গ, কারণ বিষয়টি এখনও কলকাতা কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল (CAT)-এ বিচারাধীন।

যদিও সমস্ত জল্পনার মধ্যেই ১২ জানুয়ারি ভিনিতা শ্রীবাস্তব আনুষ্ঠানিকভাবে মোরাদাবাদ ডিভিশনের DRM হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন

আসানসোলের প্রথম মহিলা DRM

ভিনিতা শ্রীবাস্তব ছিলেন আসানসোল রেল ডিভিশনের প্রথম মহিলা DRM। তিনি অক্টোবর ২০২৫-এ দায়িত্ব নেন। কিন্তু মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই তাঁকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
২ জানুয়ারি ২০২৬-এ ঝাঝা–জসিডিহ শাখার লাহাবন ও সিমুলতলা স্টেশনের মাঝখানে একটি মালগাড়ি দুর্ঘটনার পর তাঁকে তড়িঘড়ি পশ্চিম মধ্য রেলে বদলি করা হয়।

তার জায়গায় সুধীর কুমার শর্মা-কে তাৎক্ষণিকভাবে আসানসোলের DRM করা হয় এবং তিনি কোনও চার্জ-টেকওভার ছাড়াই দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যা নিয়েও প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন ওঠে।

CAT-এ চ্যালেঞ্জ, তারপরই বদল নির্দেশ

এই আকস্মিক বদলির বিরুদ্ধে ভিনিতা শ্রীবাস্তব কলকাতা CAT-এ মামলা দায়ের করেন। এখনও সেই মামলার শুনানি চলছে। এরই মধ্যে রেলবোর্ড তাঁকে মোরাদাবাদ ডিভিশনের দায়িত্ব দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে—তবে কি আদালতের কড়া মন্তব্যের পরেই রেল প্রশাসন অবস্থান বদলাতে বাধ্য হয়েছে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, CAT-এর পর্যবেক্ষণে রেলবোর্ডের আইনি অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছিল, আর সেই কারণেই পুরনো বদলি আদেশ সংশোধন করে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মোরাদাবাদ ডিভিশনেও প্রশাসনিক অস্থিরতা

উল্লেখযোগ্যভাবে, মোরাদাবাদ ডিভিশনেও সাম্প্রতিক সময়ে বড় প্রশাসনিক রদবদল হয়েছে।
প্রাক্তন DRM সংগ্রহ মৌর্য-কে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর জায়গায় রাজকুমার সিং-কে ভারপ্রাপ্ত DRM করা হয়।

রেল সূত্রে জানা গেছে, ২৯ ডিসেম্বর খুরজা স্টেশনে একটি গুরুতর অপারেশনাল ত্রুটি ঘটে, যেখানে একই লাইনে মুখোমুখি চলে আসে দুটি ট্রেন। সৌভাগ্যবশত, দুই ট্রেনের লোকো পাইলটরা সময়মতো ইমার্জেন্সি ব্রেক কষে বড় দুর্ঘটনা এড়ান।

রেলবোর্ডের সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র প্রশ্ন

ভিনিতা শ্রীবাস্তবের এই বদলি প্রযুক্তিগতভাবে পশ্চিম মধ্য রেল ক্যাডারের সঙ্গে যুক্ত হলেও, পুরো ঘটনাপ্রবাহ রেলবোর্ডের প্রশাসনিক দক্ষতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

এক প্রবীণ রেল আধিকারিকের কথায়, “এই সিদ্ধান্ত অপরিণত প্রশাসনিক মানসিকতার প্রতিফলন।”

যদি আদালতের চাপে ভুল বুঝে ইউ-টার্ন নেওয়া হয়ে থাকে, তবে তা প্রধানমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রী—দু’জনের কাছেই সতর্কবার্তা। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে—মোরাদাবাদের প্রাক্তন DRM সংগ্রহ মৌর্য কি শুধুমাত্র আইনি পথে না যাওয়ার কারণেই পুনর্বহাল হলেন না?

DRM পদ রেলের মেরুদণ্ড

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে DRM পদ GM বা বোর্ড মেম্বার হওয়ার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক না হলেও বাস্তবে DRM-ই রেলের মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক মেরুদণ্ড। এই পদের সঙ্গে এমন আচরণ গোটা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে।

যখন রেল খাতে হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হচ্ছে, তখনও এই ধরনের বিতর্ক প্রমাণ করে যে ভুল পরামর্শদাতা ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের ভূমিকা স্পষ্ট

দীর্ঘদিন ধরেই দাবি উঠছে—সরকারকে সৎ, দক্ষ ও দেশনিষ্ঠ আধিকারিকদের চিহ্নিত করে সঠিক জায়গায় বসাতে হবে এবং যাঁরা ভুল সিদ্ধান্তের জন্য দায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

ghanty

Leave a comment