আসানসোল | কুলটি
আসানসোলের কুলটি এলাকার নিয়ামতপুর জিটি রোডের কাছে সোমবার বিকেলে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিকেল প্রায় ৫টা নাগাদ শর্ট সার্কিটের জেরে ট্রান্সফরমারের নিচে রাখা একটি ডাস্টবিনে আগুন ধরে যায়। দীর্ঘদিন পরিষ্কার না হওয়ায় ডাস্টবিনে প্রচুর আবর্জনা জমে ছিল, যার ফলে মুহূর্তের মধ্যেই আগুন তীব্র আকার ধারণ করে এবং ট্রান্সফরমারের কেবলও জ্বলতে শুরু করে।
আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পেয়ে গোটা এলাকায় হুড়োহুড়ি ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। দ্রুত ঘটনাটি জানানো হয় কুলটি থানায় ও নিয়ামতপুর ফাঁড়ি পুলিশের কাছে। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয়দের তৎপরতায় রক্ষা পেল বড় বিপদ
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আগুন আরও কিছুক্ষণ ছড়ালে ব্যস্ত জিটি রোডে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। স্থানীয় মানুষজন আগুন নেভাতে এগিয়ে আসেন এবং পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়। পরে আসানসোল থেকে একটি দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করে।
বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার পর যখন বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরা একটি পাওয়ার ভ্যান নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান, তখন ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। স্থানীয়দের অভিযোগ,
“গত চার দিন ধরে ট্রান্সফরমার ও আশপাশের সমস্যার কথা জানানো হলেও কেউ আসেনি। সময়মতো ব্যবস্থা নিলে এই ঘটনা ঘটত না।”
প্রশাসনিক অবহেলার অভিযোগ
ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও, প্রশ্ন উঠছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে। স্থানীয়দের দাবি, নিয়মিত ডাস্টবিন পরিষ্কার ও ট্রান্সফরমার পরীক্ষা করা হলে এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতো না।
ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হয়। বিদ্যুৎ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত কেবল দ্রুত মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত করা হবে।











