আসানসোলের কুল্টি বিধানসভা এলাকায় বৃহস্পতিবার বড় রাজনৈতিক ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তৃণমূল নেতা স্বরূপ চৌধুরীর নেতৃত্বে হাজার হাজার তৃণমূল নেতা ও সমর্থক আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগদান করেছেন বলে জানা গেছে। এই যোগদান কর্মসূচিতে বিশেষভাবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য, যার উপস্থিতি পুরো ঘটনাকে আরও রাজনৈতিক গুরুত্ব দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক সমর্থকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় এবং মঞ্চ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগদানের ঘোষণা করা হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে বিজেপি শিবিরে উচ্ছ্বাস দেখা গেলেও, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে তীব্র প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে।
ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসানসোল পুরনিগমের মেয়র পরিষদ সদস্য গুরদাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, যারা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন তারা আসলে আগেই বিজেপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং এখন তাদের পুনরায় দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি পুরো ঘটনাকে “নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দেখানো” বলেও কটাক্ষ করেন।
গুরদাস চট্টোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে গুরুতর অভিযোগও তোলেন। তিনি দাবি করেন, বিজেপি শুধুমাত্র প্রচারের জন্য এ ধরনের কর্মসূচি করছে এবং এতে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও রাজনৈতিক ক্ষতি হবে না। পাশাপাশি দুর্গাপুরে উদ্বোধন হওয়া একটি হাসপাতালের মালিককে নিয়েও তিনি বিতর্কিত মন্তব্য করেন, যা নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে শিল্পাঞ্চল কুল্টি ও আসানসোল অঞ্চলে দলে দলে যোগদান এবং পাল্টা রাজনৈতিক মন্তব্য আরও বাড়তে পারে। স্থানীয় স্তরে সংগঠন শক্তিশালী করতে উভয় দলই জনসমর্থন দেখানোর চেষ্টা করছে।
এই ঘটনাপরবর্তী সময়ে কুল্টি জুড়ে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ তীব্র হয়েছে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক শিবির নিজেদের অবস্থান আরও জোরালোভাবে তুলে ধরছে। ফলে আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে এই ধরনের দলে বদল এবং প্রতিক্রিয়া ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।











