পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল শহরে তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক বৈঠক থেকে কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল নেতা এবং আসানসোল পুরনিগমের বরো চেয়ারম্যান দেবাশিস সরকার। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১২ বছরে কেন্দ্র সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক প্রকল্প প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি এবং সাধারণ মানুষের কাছে তার প্রকৃত সুবিধা পৌঁছায়নি।
সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেবাশিস সরকার বলেন, এই সময়কালে দেশের সাধারণ মানুষের অধিকারের উপর আঘাত এসেছে এবং পশ্চিমবঙ্গের মানুষও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বঞ্চনার শিকার হয়েছেন।
একাধিক প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন
তিনি কেন্দ্র সরকারের বেশ কিছু বড় প্রকল্পের নাম উল্লেখ করে দাবি করেন যে নোটবন্দি, মেক ইন ইন্ডিয়া, স্বচ্ছ ভারত মিশন, নদী পরিষ্কার প্রকল্প, বেটি বচাও বেটি পড়াও, মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা, বুলেট ট্রেন প্রকল্প এবং আবাসন প্রকল্প—এই সব উদ্যোগের প্রকৃত সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছায়নি।
তার কথায়, “বড় বড় ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে এই প্রকল্পগুলির ফলাফল মানুষের জীবনে তেমন পরিবর্তন আনতে পারেনি।”
মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও তোপ
কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে মূল্যবৃদ্ধির বিষয়েও তীব্র সমালোচনা করেন দেবাশিস সরকার। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে পেট্রোলের দাম ১০০ টাকার বেশি হয়ে গেছে এবং প্রতিদিনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামও ক্রমাগত বাড়ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ চরম সমস্যার মুখে পড়ছেন।
তিনি আরও বলেন, নোটবন্দি সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের কোনও বিশেষ লাভ হয়নি, বরং অনেক মানুষ অর্থনৈতিক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন। এই সিদ্ধান্তের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়েও এখনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি বলে দাবি করেন তিনি।
কৃষকদের প্রতিশ্রুতি অপূর্ণ
তৃণমূল নেতা দাবি করেন, কেন্দ্র সরকার কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। কৃষি ক্ষেত্রেও বহু সমস্যা রয়ে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্মার্ট সিটি থেকে পরিবেশ প্রকল্প—সব নিয়েই প্রশ্ন
দেবাশিস সরকার আরও বলেন, দূষণমুক্ত ভারত, ওয়ান নেশন ওয়ান পেনশন, ওয়ান নেশন ওয়ান ট্যাক্স (জিএসটি) এবং ১০০ স্মার্ট সিটি প্রকল্প—এই সব পরিকল্পনাও প্রত্যাশিত ফল দিতে পারেনি। তিনি দিল্লির দূষণ পরিস্থিতির উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, পরিবেশ সংক্রান্ত উদ্যোগগুলিও সফল হয়নি।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রসঙ্গ
এছাড়াও বিভিন্ন প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তুলে ধরে তিনি কেন্দ্র সরকারের নীতির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
তার দাবি, এই সব প্রকল্পের ব্যর্থতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বা বিজেপির অন্য কোনও নেতা স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিচ্ছেন না।
রাজনৈতিক মহলের মতে, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যে শাসক দল ও বিরোধীদের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হতে পারে, আর সেই কারণেই এই ধরনের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের রাজনীতি আগামী দিনে আরও জোরদার হতে পারে।














