কাঁকসা: কলকাতার সল্টলেকে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাকের দপ্তরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তল্লাশি অভিযান ঘিরে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে প্রতিবাদের ঝড়। সেই কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবেই বৃহস্পতিবার বিকেলে কাঁকসার পানাগড় বাজার এলাকায় প্রতিবাদে নামলেন তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকেরা।
এদিন পানাগড়ের চৌমাথা মোড়ে প্রথমে একটি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর চৌমাথা মোড় থেকে পানাগড় মাছ বাজার পর্যন্ত একটি বিক্ষোভ মিছিল সংগঠিত করা হয়। মিছিলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকার বিরুদ্ধে তীব্র স্লোগান ওঠে।
“অগণতান্ত্রিক তল্লাশি”, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ তৃণমূলের
তৃণমূল কর্মীদের অভিযোগ, আই-প্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে কেন্দ্রীয় সংস্থা অগণতান্ত্রিকভাবে তল্লাশি চালিয়েছে। নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই অতিসক্রিয়তাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলেই দাবি করা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে রাজ্যের প্রতিটি জেলা, ব্লক ও শহরে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছে বলে জানানো হয়। কাঁকসাতেও তারই অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
নেতৃত্বের কণ্ঠে বিজেপি-বিরোধী বার্তা
এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কাঁকসা ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি নব কুমার সামন্ত, তৃণমূল নেতা দেবদাস বক্সী, ব্লকের সাধারণ সম্পাদক পিরু খান, জেলা পরিষদের সদস্য বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় ও সমীর বিশ্বাস, তৃণমূল নেতা হিরন্ময় ব্যানার্জি, ব্লক নেত্রী দেবযানী মিত্র, কাঁকসা পঞ্চায়েত প্রধান সুমনা সাহা, উপপ্রধান নাসিম হায়দার মল্লিক-সহ তৃণমূলের বিভিন্ন সংগঠনের কর্মী-সমর্থকেরা।
জেলা পরিষদের সদস্য বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,
“শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন এসআইআর হলে বাংলা থেকে এক কোটি রোহিঙ্গার নাম বাদ যাবে। সেটা না হওয়ায় বিজেপি এখন লজ্জা ঢাকতে সিবিআই ও ইডির মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে নোংরা রাজনীতিতে নেমেছে। এর বিরুদ্ধে দলীয় নির্দেশেই আমরা রাস্তায় নেমেছি।”
ব্লকের সাধারণ সম্পাদক পিরু খান বলেন,
“বিজেপি বুঝে গেছে, বাংলায় নির্বাচনে লড়ে তারা কোনোদিন জিততে পারবে না। তাই কখনও ইডি, কখনও সিবিআই, আবার কখনও মিথ্যা প্রচারের মাধ্যমে তৃণমূলকে দমানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু বাংলার মানুষ আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করবে।”
কাঁকসা ব্লক সভাপতি নব কুমার সামন্ত বলেন,
“পেশিশক্তি, অর্থবল ও প্রশাসনিক চাপ দিয়েও বিজেপি কখনও তৃণমূলকে পরাজিত করতে পারেনি। এসআইআর প্রক্রিয়াতেও তারা বুঝে গেছে ভোটার তালিকা থেকে কাউকে বাদ দেওয়া যাবে না। তাই নির্বাচনের আগে আই-প্যাকের অফিস ও কর্ণধারের বাড়িতে ইডি দিয়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে। তারই প্রতিবাদে আমরা ব্লক জুড়ে আন্দোলনে নেমেছি।”
আন্দোলন চলবে, হুঁশিয়ারি তৃণমূলের
তৃণমূল নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় এজেন্সির রাজনৈতিক অপব্যবহারের বিরুদ্ধে আগামী দিনেও এই আন্দোলন লাগাতার চলবে।











