পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের বড়সড় চমক। রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী মলয় ঘটক-এর প্রভাববলয় হিসেবে পরিচিত আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশে ভাঙন দেখা দিল। তৃণমূল কংগ্রেস নেতা মোহাম্মদ ইরফান রাইন তাঁর বহু সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে যোগ দিলেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন-এ, যা সংক্ষেপে এআইএমআইএম নামে পরিচিত।
এই যোগদান ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কারণ, আসানসোল উত্তর বরাবরই শাসকদলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে।
দানিশ আজিজের হাত ধরে দলবদল
পশ্চিম বর্ধমান জেলা এআইএমআইএম কমিটির সভাপতি দানিশ আজিজ আনুষ্ঠানিকভাবে মোহাম্মদ ইরফান রাইন ও তাঁর অনুগামীদের দলে স্বাগত জানান। জেলা নেতৃত্বের দাবি, এই যোগদানের ফলে আসানসোল উত্তরে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে এবং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে দল আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে লড়াই করবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা এআইএমআইএমের সাধারণ সম্পাদক এজাজ আহমেদ, আসানসোল উত্তর বিধানসভার ব্লক সভাপতি আরশাদ খান এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলা ও আসানসোল উত্তর বিধানসভার সম্পূর্ণ এআইএমআইএম টিম।
ওয়াইসির নেতৃত্বে জয়ের লক্ষ্য
এআইএমআইএমের সর্বভারতীয় সভাপতি আসাদউদ্দিন ওয়াইসি-এর নেতৃত্বে দলটি পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের সংগঠন সম্প্রসারণে জোর দিচ্ছে। দলের দাবি, আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে তারা “সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়” অর্জনের লক্ষ্যে এগোচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে এআইএমআইএম তাদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে, আর এই ধরনের যোগদান সেই কৌশলেরই অংশ।
বদলাবে কি আসানসোলের রাজনৈতিক সমীকরণ?
আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে এই দলবদল ভবিষ্যৎ নির্বাচনের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। তৃণমূল কংগ্রেসের ভিত কতটা নড়বড়ে হয়েছে, নাকি এটি শুধুই সীমিত প্রভাবের ঘটনা—তা সময়ই বলবে।
তবে নির্বাচনের আগে এই রাজনৈতিক পালাবদল যে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। এখন নজর আসন্ন নির্বাচনের দিকে—আসানসোল উত্তরে কার দখলে যাবে আসন?














