কুলটি (পশ্চিমবঙ্গ): কুলটি থানার নিয়ামতপুর পুলিশ ফাঁড়ির অধীন মুচিপাড়া এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর জাকির হোসেনের ভাই সাগির হোসেন কর্তৃক রেশন ডিলার রোহিত বলোদিয়াকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হচ্ছে।
কী ঘটেছিল পুরো ঘটনা?

রেশন ডিলার রোহিত বলোদিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে তিনি উপভোক্তা মহম্মদ ইউনুসকে কম রেশন দিয়েছেন। ইউনুস এই বিষয়ে কাউন্সিলরের অফিসে অভিযোগ জানান। এরপর সাগির হোসেন তার সমর্থকদের সঙ্গে রেশন দোকানে যান। সেখানে বাক-বিতণ্ডা শুরু হয় যা পরে ধাক্কাধাক্কি এবং মারধরে পরিণত হয়।
CCTV ফুটেজে ধরা পড়ল গুন্ডামি:
ঘটনার CCTV ফুটেজ প্রকাশ্যে আসার পর এই ঘটনা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গেছে যে সাগির হোসেন এবং তার সমর্থকরা রেশন ডিলারকে ধাক্কাধাক্কি করছেন। যদিও সাগির দাবি করেছেন যে সেখানে কোনও মারধর হয়নি, শুধু কথাকাটাকাটি হয়েছিল।

রেশন ডিলারের প্রতিক্রিয়া:
রোহিত বলোদিয়া এই ঘটনাকে “লজ্জাজনক” বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেন, “আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো উচিত ছিল। আইন হাতে নেওয়া অনুচিত। আমি ন্যায়বিচারের জন্য পুলিশ এবং আদালতের দ্বারস্থ হব।”

স্থানীয় উপভোক্তাদের সমর্থন:
এই ঘটনার পর রেশন নিতে আসা স্থানীয় উপভোক্তারা রোহিত বলোদিয়ার পাশে দাঁড়ান। তারা বলেন, “রোহিত সবসময় সৎভাবে রেশন বিতরণ করেন। রাজনৈতিক চাপে এই বিতর্ক তোলা হয়েছে।”
কাউন্সিলরের ভূমিকা:

ঘটনাস্থলে উপস্থিত কাউন্সিলর জাকির হোসেন পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন, কিন্তু সেখানেও তর্ক হয়। শেষ পর্যন্ত, বিতর্কের পর উপভোক্তা মহম্মদ ইউনুসকে ২০ কেজি রেশন দেওয়া হয় এবং কাউন্সিলর তার ভাই ও সমর্থকদের নিয়ে সেখান থেকে চলে যান।
পরবর্তী পদক্ষেপ:
এখন দেখার বিষয় যে রেশন ডিলারের পুলিশের কাছে করা অভিযোগের ওপর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হচ্ছে।










