পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক প্রস্তুতি জোরদার করতে শাসক দল All India Trinamool Congress (TMC) প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় এক অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দলের সদর দফতরে বসানো হয়েছে বিশেষ ‘বায়োডাটা বক্স’, যেখানে আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক নেতা, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ নিজেদের বায়োডাটা জমা দিতে পারছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও জনসংযোগে দক্ষ নতুন মুখ খুঁজতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রী ও দলনেত্রী Mamata Banerjee-এর নির্দেশেই শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সোমবার বায়োডাটা বক্স স্থাপনের পর থেকেই আবেদনকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে এবং ইতিমধ্যেই ১০০-রও বেশি বায়োডাটা জমা পড়েছে বলে খবর।
নতুন মুখের খোঁজে তৃণমূল, বাড়ছে আগ্রহ
জমা পড়া বায়োডাটাগুলির মধ্যে রয়েছেন চিকিৎসক, সমাজকর্মী, শিক্ষিত পেশাজীবী, তরুণ সংগঠক থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বর্তমান ও প্রাক্তন বিধায়কদের মধ্যেও পুনরায় টিকিট পাওয়ার আশায় বায়োডাটা জমা দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, একাধিক আসনে নতুন ও তরুণ প্রার্থীদের সুযোগ দিতে চাইছে দল, যাতে সংগঠনে নতুন উদ্যম ও জনসমর্থন আরও মজবুত করা যায়।
২০২১ সালের পথেই হাঁটছে দল
দলীয় সূত্রের দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং গত লোকসভা নির্বাচনের আগেও একই ধরনের ড্রপ বক্স পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই এবার আরও সুসংগঠিতভাবে এই প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে।
জানা গেছে, গোটা প্রক্রিয়ার তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলের রাজ্য সভাপতি Subrata Bakshi-কে। নির্বাচন কমিশন ভোটের দিন ঘোষণা করার দিনই এই বায়োডাটা বক্স খোলা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় বড় পরিবর্তনের জল্পনা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগের ফলে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় বড়সড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন, সেখানে নতুন ও গ্রহণযোগ্য মুখ তুলে আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে বিরোধী শিবিরও নির্বাচনী প্রস্তুতিতে পিছিয়ে নেই। বিজেপিও তাদের নির্বাচনী ইস্তেহারের জন্য রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন দফতরে পরামর্শ সংগ্রহের লক্ষ্যে ড্রপ বক্স স্থাপন করেছে।
সব মিলিয়ে ‘বায়োডাটা বক্স’ ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক অন্দরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এবার নজর থাকবে—এই উদ্যোগ থেকে ঠিক কোন নতুন মুখ উঠে আসে এবং তা আগামী নির্বাচনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে।











