কলকাতা: সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এসআইআর (স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন) প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্য সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপি বিধায়ক ও বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
রাজ্য বিজেপি দফতরে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, সোমবার সুপ্রিম কোর্টের যে নির্দেশ এসেছে, তাতে নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ক্ষমতার উপর স্পষ্ট সিলমোহর পড়েছে। তাঁর দাবি, এই রায় প্রমাণ করেছে যে গণতন্ত্রের পথেই এগোচ্ছে দেশ এবং আদালত নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে।
⚖️ আদালতকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ
শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, রাজ্য সরকার আদালতে যে তালিকা জমা দিয়েছে, তাতে গুরুতর অনিয়ম রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এই প্রক্রিয়ায় গ্রুপ ‘বি’ স্তরের আধিকারিকদের অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা ছিল। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও পঞ্চায়েত স্তরের কর্মীদের নাম যুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, আদালতে ভুল তথ্য পেশ করা সরাসরি আদালত অবমাননার শামিল এবং প্রয়োজনে এ বিষয়ে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
🗳️ ভোটার তালিকা নিয়ে কারসাজির অভিযোগ
বিরোধী দলনেতার আরও অভিযোগ, ভোটার তালিকায় ত্রুটি খুঁজে সাধারণ মানুষকে এসআইআর কেন্দ্রে ডেকে হয়রানি করা হচ্ছিল, যাতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নেতিবাচক পরিবেশ তৈরি করা যায়। তাঁর কথায়, সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা সর্বোচ্চ এবং ইআরও ও এএইআরওদের রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপ ছাড়াই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
🔥 রাজনীতিতে উত্তাপ বৃদ্ধি
এই মন্তব্যের পর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে বাকযুদ্ধ আরও তীব্র হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের অনুমান। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকা ও এসআইআর প্রক্রিয়া যে বড় ইস্যু হয়ে উঠতে চলেছে, তা স্পষ্ট।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর এখন নজর রাজ্য সরকারের প্রতিক্রিয়ার দিকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনায় রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।











