চন্দ্রকোণা / কলকাতা:
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের তীব্র উত্তেজনা। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন, তাঁর কাফিলায় হামলা চালিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে এবং দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে তিনি চন্দ্রকোণা থানার মধ্যেই ধর্নায় বসেন, যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, হামলাটি ঘটেছে পুলিশের উপস্থিতিতেই, কিন্তু আইনরক্ষাকারী বাহিনী তখন কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে বিরোধী কণ্ঠস্বর দমন করতেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।
পুরুলিয়া থেকে ফেরার পথে হামলা
শুভেন্দু অধিকারী জানান, শনিবার রাত প্রায় ৮টা ২০ মিনিট নাগাদ, পুরুলিয়া থেকে ফেরার সময় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোণা রোডে তাঁর কাফিলাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। তাঁর কথায়,
“এটা শুধু আমার উপর আক্রমণ নয়, এটা গোটা বাংলায় বিরোধী রাজনীতির উপর আঘাত।”
থানায় ধর্না, FIR ও গ্রেপ্তারের দাবি
হামলার পরই শুভেন্দু অধিকারী চন্দ্রকোণা থানায় যান এবং সেখানেই অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন। তিনি পুলিশের কাছে হামলাকারীদের নাম উল্লেখ করে এফআইআর দায়ের ও অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তাঁর দাবি, ঘটনার সময় সেখানে তৃণমূলের যুব সংগঠনের এক শীর্ষ নেতা এবং এক শ্রমিক সংগঠনের নেতা উপস্থিত ছিলেন।
‘ভোটের আগে তৃণমূল আতঙ্কিত’
শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল কংগ্রেস সম্ভাব্য পরাজয়ের আশঙ্কায় ভুগছে।
“জনঅসন্তোষ সামলাতে না পেরে তারা গুন্ডামির পথ বেছে নিচ্ছে,”— বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বাংলা আজ এক ধরনের আইনহীন শাসনের মুখোমুখি, কিন্তু রাজ্যের মানুষ এই পরিস্থিতি আর মেনে নেবে না। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত তিনি পিছু হটবেন না বলেও স্পষ্ট করে দেন।
রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও উঠছে একাধিক প্রশ্ন।











