📍 মুম্বই:
মহারাষ্ট্রে বৃহন্মুম্বই পুরসভা (বিএমসি)-সহ বিভিন্ন পুরনিগম নির্বাচনের আবহে রাজনৈতিক বক্তব্য নতুন মাত্রা পেল। শরদ পওয়ার গোষ্ঠীর সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) নিয়ে চলমান বিতর্কে স্পষ্ট ও ব্যতিক্রমী অবস্থান নিয়ে বললেন—
“যে ইভিএমের মাধ্যমে আমি নিজে চারবার নির্বাচনে জয়ী হয়েছি, সেই যন্ত্রকে আমি কীভাবে প্রশ্ন করব?”
📺 ‘মুম্বই মন্থন’ মঞ্চে স্পষ্ট বক্তব্য
মুম্বইয়ে আয়োজিত আজতক-এর ‘মুম্বই মন্থন’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুপ্রিয়া সুলে বিএমসি নির্বাচন এবং নতুন রাজনৈতিক জোট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর কথায়,
এই নির্বাচন শুধুমাত্র ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং দলীয় কর্মীদের সম্মান ও দীর্ঘদিনের সংগ্রামের প্রশ্ন। তবে একইসঙ্গে মহারাষ্ট্রে গড়ে ওঠা অদ্ভুত রাজনৈতিক সমীকরণ ও জোট রাজনীতিও তাঁকে চিন্তিত করছে।
🗳️ ইভিএম বিতর্কে স্পষ্ট অবস্থান
ইভিএম নিয়ে প্রশ্ন তোলা প্রসঙ্গে সুপ্রিয়া সুলে বলেন, ভোট কখনও বাড়ে, কখনও কমে— সেটাই গণতন্ত্রের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু সব কিছুর জন্য যন্ত্রকে দোষারোপ করা যুক্তিসংগত নয়।
তাঁর স্পষ্ট মত, সমস্যা ইভিএমে নয়, আসল সমস্যা ভোটার তালিকার নির্ভুলতা ও বিশ্বাসযোগ্যতায়।
⚖️ ভোটার তালিকা নিয়ে বড় প্রশ্ন
সুপ্রিয়া সুলে জোর দিয়ে বলেন,
“ভোটার তালিকায় যদি অসঙ্গতি থাকে, তাহলে গণতন্ত্রই দুর্বল হয়ে পড়বে। নির্ভুল তালিকা ছাড়া সৎ ও স্বচ্ছ ভোটপ্রক্রিয়া কীভাবে সম্ভব?”
তাঁর মতে, প্রকৃত ত্রুটি আড়াল করে শুধু ইভিএমকে কাঠগড়ায় তোলা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর।
📌 রাজনীতি ও পরিবার— স্পষ্ট সীমারেখা
এই আলোচনায় সুপ্রিয়া সুলে আরও বলেন, তাঁর কাছে দেশ সবার আগে, তারপর রাজ্য, তারপর দল এবং সবশেষে পরিবার।
তিনি স্পষ্ট করে জানান, রাজনীতি ও পরিবারকে একসঙ্গে মেশানো উচিত নয়। রাজনীতি হওয়া উচিত জাতীয় স্বার্থ ও নীতিনির্ধারণের জন্য, ব্যক্তিগত লাভের জন্য নয়।
📊 জোট রাজনীতি নিয়ে উদ্বেগ
সুপ্রিয়া সুলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য—
মহারাষ্ট্রের বহু আসনে ভিন্ন ভিন্ন জোট এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে, যা গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার পক্ষে শুভ নয়। কোথাও কোথাও কোনও লড়াই ছাড়াই প্রার্থী জিতে যাওয়া রাজনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
📌 রাজনৈতিক তাৎপর্য
ইভিএম নিয়ে যেখানে বিরোধী দলগুলির বড় অংশ প্রশ্ন তুলতে অভ্যস্ত, সেখানে সুপ্রিয়া সুলের এই মন্তব্য বিশেষ রাজনৈতিক তাৎপর্যপূর্ণ। রাজনৈতিক মহলের মতে,
এই বক্তব্যের পর সরকার-বিরোধী বয়ানে নেতৃত্ব স্তরেই মতপার্থক্য স্পষ্ট হতে পারে।











