পশ্চিমবঙ্গ SIR মামলা: সুপ্রিম কোর্টে বড় স্বস্তি, ভোটার তালিকার সময় বাড়ল

single balaji

নয়াদিল্লি:
পশ্চিমবঙ্গের SIR (Special Summary Revision) সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্ট এক গুরুত্বপূর্ণ ও বহুল আলোচিত নির্দেশ জারি করেছে। শীর্ষ আদালত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের তারিখ এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। দীর্ঘ শুনানি ও সব পক্ষের যুক্তি শোনার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শুনানিতে কারা কারা ছিলেন

এই মামলার শুনানিতে

  • নির্বাচন কমিশন,
  • পশ্চিমবঙ্গ সরকার,
  • মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়,
  • এবং কেন্দ্রীয় সরকার
    নিজ নিজ অবস্থান আদালতের সামনে তুলে ধরে। শুনানির সময় বিচারপতিরা একাধিক প্রশ্নও তোলেন।

নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়, SIR প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ ও উপযুক্ত আধিকারিক দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে কেন্দ্র সরকার যুক্তি দেয়, সংবিধান দেশের সব রাজ্যের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য

সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশ

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত SIR প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে একাধিক অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেন—

  • পশ্চিমবঙ্গ সরকার তালিকাভুক্ত ৮,৫৫৫ জন গ্রুপ-বি আধিকারিককে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের (DEO) কাছে রিপোর্ট করতে হবে।
  • নির্বাচন কমিশনকে বর্তমান ERO ও AERO পরিবর্তন করে যোগ্য আধিকারিক নিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
  • আধিকারিকদের বায়োডাটা সংক্ষিপ্ত যাচাইয়ের পর এক বা দুই দিনের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাঁদের মাইক্রো অবজারভার হিসেবে কাজে লাগানো যাবে।
  • আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, মাইক্রো অবজারভারদের ভূমিকা শুধুমাত্র ERO-কে সহায়তা করা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ERO-রাই।

নতুন আধিকারিক নিয়োগের ফলে নথি যাচাইয়ে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে আদালত ১৪ ফেব্রুয়ারির পর ERO-দের আরও এক সপ্তাহ সময় দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

শুনানির সময় কড়া মন্তব্য

শুনানির সময় যুক্তি উপস্থাপনে সমন্বয়ের অভাব ও একসঙ্গে একাধিক পক্ষ কথা বলায় প্রধান বিচারপতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন,
“এই ধরনের পরিস্থিতিতে আদালতের পক্ষে শুনানি চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে যায়।”

রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পাল্টাপাল্টি যুক্তি

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষে বরিষ্ঠ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি জানান,

“নির্বাচন কমিশন কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রুপ-বি আধিকারিক চায়নি।”

রাজ্যের তরফে আধিকারিক মনোজ পান্ত আদালতে ERO ও AERO সংক্রান্ত প্রশাসনিক তথ্য পেশ করেন।

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন জানায়, তারা একাধিকবার রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়ে আধা-বিচারিক কাজের জন্য প্রশিক্ষিত আধিকারিক চেয়েছে। কমিশনের মতে, অভিজ্ঞতাহীন আধিকারিক নিয়োগ হলে পুরো প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে

কেন্দ্র সরকারের বক্তব্য

কেন্দ্র সরকারের তরফে আদালতে বলা হয়,

“এটা স্পষ্ট বার্তা দেওয়া জরুরি যে সংবিধান দেশের সব রাজ্যের ক্ষেত্রেই সমানভাবে কার্যকর।”

একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের উদ্বেগগুলিও আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়।

সারসংক্ষেপ

দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ শুনানির পর সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গ SIR মামলায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময়সীমা এক সপ্তাহ বাড়ানোর নির্দেশ দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নির্দেশ আগামী নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

ghanty

Leave a comment