আসানসোল: বিহারের জামুই জেলার সিমুলতলা এলাকায় ২৭ ডিসেম্বর ঘটে যাওয়া রেল দুর্ঘটনার পর আসানসোল রেল ডিভিশনের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) বিনীতা শ্রীবাস্তবের বদলি সংক্রান্ত মামলায় বৃহস্পতিবার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেল। কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল (ক্যাট)-এর কলকাতা বেঞ্চ উভয় পক্ষের চূড়ান্ত সওয়াল-জবাব শোনার পর রায় সংরক্ষণ করেছে। ক্যাট সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১২ জানুয়ারি এই মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে ৫ জানুয়ারি ক্যাট ডিআরএম বিনীতা শ্রীবাস্তবের বদলি সংক্রান্ত রেলবোর্ডের নির্দেশে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছিল। সিমুলতলায় রেল দুর্ঘটনার পর ডিআরএমের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তিনি ঘটনাস্থলে দেরিতে পৌঁছেছিলেন এবং উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কাজের জন্য প্রয়োজনীয় খরচের অনুমোদন দিতে বিলম্ব করেছিলেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই রেলবোর্ড তাঁকে সেন্ট্রাল রেলওয়েতে বদলি করে।
তবে ডিআরএম বিনীতা শ্রীবাস্তব ক্যাটে দাখিল করা আবেদনে স্পষ্টভাবে জানান, তিনি ২৮ ডিসেম্বর রাতেই দুর্ঘটনা-উদ্ধার ট্রেনের সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং ৩১ ডিসেম্বর সকাল পর্যন্ত টানা সেখানে উপস্থিত থেকে রেললাইন পুনরুদ্ধারের কাজ তদারকি করেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ৩০ ডিসেম্বর রাতেই ডাউন মেইন লাইন চলাচলের জন্য উপযুক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল, কিন্তু উচ্চস্তরে সিগন্যাল লাইনে ট্রেন চালানোর অনুমতি দিতে অকারণে দেরি করা হয়।
রেল প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, ২.২২ কোটি টাকার ক্যাশ ইমপ্রেস্ট (তাৎক্ষণিক খরচের অনুমোদন) দিতে বিলম্ব হওয়াটাও ডিআরএমের বদলির একটি কারণ। তবে ডিআরএম পক্ষ এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করে জানিয়েছে, উদ্ধার ও পরিষেবা স্বাভাবিক করার কাজে কোনও গাফিলতি করা হয়নি।
এই মামলাকে কেন্দ্র করে রেল প্রশাসনিক মহলে যথেষ্ট আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। কারণ ক্যাটের রায় ভবিষ্যতে রেল দুর্ঘটনার পর দায়িত্ব নির্ধারণ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এখন সব নজর ১২ জানুয়ারি ক্যাটের চূড়ান্ত রায়ের দিকে।











