শিখ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, আসানসোল-এর আয়োজনে এক অসাধারণ অনুষ্ঠান — ‘শিখ এক্সেলেন্স স্টুডেন্ট অ্যাওয়ার্ড’- এর মধ্য দিয়ে আসানসোল আবার একবার সাক্ষী থাকলো শিক্ষার, সংস্কৃতির ও সেবার মিলনমেলায়।
এই আয়োজনে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও ক্রীড়াক্ষেত্রে উজ্জ্বল পারফর্ম করা ১৫০ জনেরও বেশি সিখ ছাত্রছাত্রীকে সম্মান জানানো হয়।
🏆 দুই বছরের কৃতীদের একত্রে সম্মাননা
সোসাইটির সভাপতি হরজিত সিং বাগ্গা ও কার্যনির্বাহী সভাপতি সুরজিত সিং মাক্কার জানিয়েছেন, প্রতিবছরের মতো এবারও দুই বছরের (২০২৪ ও ২০২৫) মেধাবী শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
ধনবাদ থেকে আসানসোল পর্যন্ত নানা প্রান্তের শিখ পরিবারের শিশুরা এই আয়োজনে অংশ নেন।

⚔️ গৎকা মার্শাল আর্ট ও নাট্য পরিবেশনায় নজর কাড়ল
- জামশেদপুর ধর্ম প্রচার কমিটি-র সদস্যরা এক মনোমুগ্ধকর গৎকা (শিখ মার্শাল আর্ট) প্রদর্শন করেন, যা উপস্থিত দর্শকদের দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- এছাড়াও সমাজে প্রচলিত কুপ্রথা ও অসংস্কারের বিরুদ্ধে একটি নাটকীয় পরিবেশনা তুলে ধরা হয়, যা উপস্থিত জনতাকে সচেতন করে তোলে।
🙏 সমাজসেবীদের কৃতিত্বের স্বীকৃতি
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন —
- পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী মলয় ঘটক,
- চেয়ারম্যান অমরনাথ চ্যাটার্জি,
- মেয়র পরিষদের সদস্য গুরুদাস চ্যাটার্জি,
- পार্ষদ গুরমীত সিং,
যাদের সমাজে অনন্য অবদানের জন্য সম্মান জানানো হয়।
🍲 লঙ্গর ও রক্তদান শিবিরে মানবতার বার্তা
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার জন্য বিশেষ লঙ্গর সেবা রাখা হয় — যা শিখ ধর্মের এক মহান সংস্কার।
পাশাপাশি রক্তদান শিবির-ও অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ডজনখানেক মানুষ রক্তদান করে অনুষ্ঠানকে সফল করে তোলেন।
সোসাইটির সম্পাদক রনজিত সিং দেওল জানান, ‘‘শুধু পুরস্কারই নয়, এ অনুষ্ঠান আমাদের একতা, মানবতা এবং সংস্কৃতির পরিচয়।’’
💎 বিশেষ সম্মাননা ও অনুপ্রেরণামূলক পুরস্কার
- শিশুদের জন্য ছিল ‘কৌম দে হীরে বেবী নানকি অ্যাওয়ার্ড’,
- তরুণদের জন্য ‘সিং ইজ কিং’ পুরস্কার,
- এছাড়াও ছিল নানা বিভাগে সৃজনশীল এবং সাহসিকতার পুরস্কার।
আসানসোল সেন্ট্রাল গুরুদ্বারা ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি জগদীশ সিং ও সম্পাদক তারসেম সিং জানান, “এই পুরস্কারগুলোর মাধ্যমে সিখ সমাজের ভবিষ্যৎকে গড়ে তোলার দিশা দেখানো হচ্ছে।”
🌟 এই আয়োজনের বার্তা কী?
“shikh Excellence Student Award” শুধুই একটি অনুষ্ঠানের নাম নয়, এটি একটি চেতনার বিপ্লব।
এটি বোঝায় কীভাবে একটি সমাজ তার ঐতিহ্যকে ধরে রেখেও আধুনিক শিক্ষায় নেতৃত্ব দিতে পারে।













