কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ৯ আগস্ট ২০২৪ তারিখে সংঘটিত নৃশংস ধর্ষণকাণ্ড ঘিরে ক্ষোভ ও বেদনা এখনও কাটেনি। এই ঘটনায় নির্যাতিতা তরুণী চিকিৎসকের বাবা ন্যায়বিচারের দাবিতে এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ইতিমধ্যেই তিনি এই বিষয়ে সাক্ষাতের জন্য সময় চেয়েছেন।
নির্যাতিতার বাবা সম্প্রতি বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের কাছেও নিজের দাবি ও অসন্তোষের কথা তুলে ধরেছেন। শমীক ভট্টাচার্য পরিবারটিকে আশ্বাস দিয়েছেন যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের সাক্ষাৎ করানোর জন্য তিনি সব রকম সহযোগিতা করবেন।
আগেও একাধিকবার সাক্ষাতের আবেদন
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই প্রথম নয়—এর আগেও একাধিকবার নির্যাতিতার বাবা অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু নানা কারণে সেই সাক্ষাৎ সম্ভব হয়ে ওঠেনি। এবার নতুন করে তিনি কেন্দ্রীয় স্তরে হস্তক্ষেপের আবেদন জানালেন।
তদন্ত ও রায় নিয়ে প্রশ্ন
নির্যাতিতার বাবা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, এই মামলায় তিনি এখনও সম্পূর্ণ ন্যায়বিচার পাননি। তাঁর অভিযোগ, তদন্ত এবং তার ফলাফলে বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আজও উত্তরহীন রয়ে গেছে।
এই ঘটনার তদন্ত প্রথমে কলকাতা পুলিশ শুরু করলেও পরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই দায়িত্ব নেয়। সিবিআই তাদের তদন্তে প্রাক্তন সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কেই অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে। আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিলেও নির্যাতিতার পরিবার এই রায়ে সন্তুষ্ট নয়।
‘পুরো সত্য এখনও সামনে আসেনি’
পরিবারের দাবি, এই ভয়াবহ ঘটনার পেছনে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে এবং শুধুমাত্র একজনকে দোষী সাব্যস্ত করে মামলার ইতি টানা যায় না। তাঁদের মতে, প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের জন্য আরও গভীর ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন।
ন্যায়ের লড়াই চলবে
নির্যাতিতার বাবা জানিয়েছেন, যতক্ষণ না তিনি তাঁর মেয়ের জন্য পূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত দেখতে পাচ্ছেন, ততক্ষণ তাঁর লড়াই থামবে না। এখন দেখার বিষয়, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ আদৌ সম্ভব হয় কি না এবং সেই বৈঠকের পর এই মামলায় কোনও নতুন মোড় আসে কি না।











