রানিগঞ্জ/আসানসোল: রানিগঞ্জের বান্সদার শুভদর্শিনী হাসপাতালে এক তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনার পর অবশেষে মেয়র বিধান উপাধ্যায় ও জামুরিয়ার বিধায়ক হরিরাম সিংহের হস্তক্ষেপে সমঝোতার পথ তৈরি হল। মঙ্গলবার আসানসোল পুরনিগমের সদর দফতরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, মৃতার পরিবার ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সর্বদলীয় বৈঠকের পর ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।
⚡ রবিবার রাতে ভর্তি, সোমবার সকালে মৃত্যু—অভিযোগ চিকিৎসায় চরম গাফিলতি
প্রসঙ্গত, খোয়াজা নগরের ২০ বছরের সানওয়ারা খাতুনকে রবিবার গভীর রাতে পেটব্যথা ও বমি নিয়ে শুভদর্শিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু পরিবারের অভিযোগ—
“ভর্তি হওয়ার পর ডাক্তার একবারও রোগীকে দেখতে আসেননি, শুধু ফোনে নির্দেশ দিয়েছেন।”
এর ফলেই রোগীর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হয় এবং শেষমেশ মৃত্যু ঘটে।
সোমবার সকালে ক্ষুব্ধ পরিবার হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। অভিযোগ ওঠে—চিকিৎসাগত গাফিলতিতেই তরুণীর মৃত্যু।
🏛️ পুরনিগমে সর্বদলীয় বৈঠক — মেয়র ও এমএলএর উপস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
তীব্র অভিযোগ ও ক্ষোভের পর, মঙ্গলবার পুরনিগমে বসে সর্বদলীয় বৈঠক। উপস্থিত ছিলেন—
- মেয়র বিধান উপাধ্যায়
- জামুরিয়া বিধায়ক হরিরাম সিংহ
- হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ
- মৃতার পরিবার
বৈঠকে সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর পরিবারের দাবি অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের রূপরেখা চূড়ান্ত হয়।
💰 ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্ত: দুই মেয়ের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় নজিরবিহীন ঘোষণা
বিধায়ক হরিরাম সিংহ জানান—
- মৃতার দুই নাবালিকা কন্যাকে প্রাপ্তবয়স্ক (১৮ বছর) হওয়া পর্যন্ত মাসে মোট ১০,০০০ টাকা দেওয়া হবে (প্রতি মেয়েকে ৫,০০০ টাকা)।
- এছাড়াও, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রতি মেয়ের নামে দেড় লক্ষ টাকা করে মোট ৩ লক্ষ টাকার স্থায়ী আমানত (FD) ব্যাংকে জমা করবে।
এতে দুই শিশুর ভবিষ্যৎ কিছুটা হলেও সুরক্ষিত হবে বলে তিনি জানান।
😢 গ্রামের মানুষের দাবি—‘চিকিৎসা ব্যবস্থার অবনতি বন্ধ হোক’
মৃতার গ্রাম বেনালি ও আশপাশের এলাকায় শোক ও ক্ষোভ—
অনেকেরই বক্তব্য, সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার মান দ্রুত অবনতি হচ্ছে।
গ্রামবাসীর প্রশ্ন—
“ডাক্তার যদি ফোনে চিকিৎসা করেন, তাহলে প্রাণ বাঁচাবে কে?”
সূত্র অনুযায়ী, হাসপাতালের CCTV ফুটেজ ও নার্সদের বিবৃতি খতিয়ে দেখা হতে পারে।
স্থানীয়দের দাবি—হাসপাতালে পর্যাপ্ত ডাক্তার না থাকা বা নাইট-শিফটে চিকিৎসক অনুপস্থিত থাকা নিয়মিত ঘটনা।
বৈঠকে মেয়র হাসপাতাল ব্যবস্থাপনাকে কঠোর সতর্কবার্তাও দিয়েছেন বলে জানা গেছে।











