আসানসোল: পশ্চিম বর্ধমান জেলার রানিগঞ্জ এলাকায় রান্নার গ্যাসকে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বুকিং করার পরেও গ্রাহকদের কাছে এইচপি গ্যাসের সিলিন্ডার না পৌঁছানোয় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ, তাঁদের মোবাইল ফোনে গ্যাস ডেলিভারির নিশ্চিতকরণ বার্তা (ডেলিভারি কনফার্মেশন) দেখাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে তাঁদের বাড়িতে কোনও সিলিন্ডার পৌঁছায়নি। ফলে এখন একটাই বড় প্রশ্ন উঠছে— ডেলিভারি দেখানো হলেও সেই গ্যাস শেষ পর্যন্ত গেল কোথায়?
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে গ্যাস ডিলার
এই ঘটনার জন্য অভিযোগের তীর উঠেছে এইচপি গ্যাস ডিলার মিলন কান্তি মণ্ডল-এর দিকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অনেকেই ভোর চারটা থেকেই গ্যাস পাওয়ার আশায় লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর হঠাৎই দেখা যায় দোকানের সামনে একটি বোর্ড টাঙানো হয়েছে, যেখানে লেখা—
“আজ গ্যাসের গাড়ি আসেনি, এর জন্য আমরা দুঃখিত।”
এর কিছুক্ষণ পরেই দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়।
একদিকে গ্রাহকদের মোবাইলে ডেলিভারির বার্তা দেখাচ্ছে, অন্যদিকে দোকান থেকে বলা হচ্ছে গ্যাসের গাড়িই আসেনি—এই স্পষ্ট বিরোধাভাসে ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রাহকরা।
গ্যাস এজেন্সির সামনে বিক্ষোভ
ঘটনার পরপরই গ্যাস এজেন্সির সামনে শুরু হয় বিক্ষোভ। ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের বক্তব্য,
“আমাদের নামে বুকিং হয়েছে, আমাদের ফোনে ডেলিভারির মেসেজ এসেছে, কিন্তু সিলিন্ডার নেই—তাহলে গ্যাস গেল কোথায়?”
স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি শুধুমাত্র পরিষেবার গাফিলতি নয়, বরং এর পেছনে বড় ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সম্ভাবনা রয়েছে।
চরম সমস্যায় সাধারণ পরিবার
রান্নার গ্যাস না পাওয়ায় এলাকার বহু পরিবার গুরুতর সমস্যার মুখে পড়েছে। অনেকেই জানিয়েছেন, কয়েক দিন আগে বুকিং করলেও এখনও সিলিন্ডার হাতে পাননি। অথচ মোবাইলে ডেলিভারি সম্পন্ন হওয়ার বার্তা দেখানো হচ্ছে।
এর ফলে গ্রাহকদের সন্দেহ, ভুয়ো ডেলিভারি দেখিয়ে অন্যত্র সিলিন্ডার সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে কি না—এই প্রশ্ন এখন জোরালো হয়ে উঠেছে।
তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রাহকদের একটাই দাবি—
পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
সাধারণ মানুষের বক্তব্য,
যদি সিস্টেমে ডেলিভারি দেখানো হয়, তাহলে সেই গ্যাস কার হাতে পৌঁছেছে তার স্পষ্ট জবাব দিতে হবে।
রানিগঞ্জে এইচপি গ্যাস পরিষেবা নিয়ে বাড়তে থাকা এই অভিযোগ এখন প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। গ্রাহকদের দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে যাঁরা বুকিং করেছেন তাঁদের হাতে অবিলম্বে সিলিন্ডার পৌঁছে দিতে হবে।














