City Today News

monika, grorius, rishi

বহু পুরসভা, বিধানসভা কেন্দ্রে বিরোধীরা এগিয়ে, ঘর গোছাতে নানা খামতি নিয়ে মুখর মুখ্যমন্ত্রী

mamta17

গতবারের চেয়ে লোকসভা ভোটে বেশি আসন পেয়েও স্বস্তি নেই। কারণ পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা কেন্দ্র ও পুরসভা ভিত্তিতে বিরোধীরা আগের তুলনায় বেশকিছুটা এগিয়ে গিয়েছে। তাই তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব খাপ্পা। দলের সর্বময় নেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটের ফলাফল বেরোনোর পর দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। সোমবার তৃণমূল পরিচালিত পুরসভাগুলির মেয়র, পৌরপ্রধান, নেতা, মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধি, আমলাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন এবং সেখানে কাজে গাফিলতির জন্য বিভিন্ন জনকে ধমক দিয়েছেন। একাধিক মন্ত্রী, সচিব, পুলিশ-প্রশাসনের কর্তাদের নাম করে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। বেআইনি নির্মাণ, জমি দখল, জঞ্জাল, নিকাশি, টাকা খাওয়া প্রভৃতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী একরাশ অভিযোগ এনেছেন। এইসব জায়গায় ঠিকমতো কাজ না হওয়াতেই দলের ফল খারাপ হয়েছে বলে মনে করেন তৃণমূল নেতৃত্ব। দলের সদ্যজয়ী সাংসদ, নেতাদের কথাতেও এই ক্ষোভ ফুটে উঠেছে।
বর্তমানে রাজ্যে দু’-একটি পুরসভা বিরোধীদের দখলে। বাদবাকি সবই তৃণমূলের দখলে। কিন্তু ওইসব এলাকার অনেকগুলিতে এবারের লোকসভা ভোটে তৃণমূল পিছিয়ে পড়েছে। মোট ১২৬টি পুরসভা ও পুরনিগমের অধিকাংশে বিরোধীরা তৃণমূলকে পিছনে ফেলে দিয়েছে। আর এতেই টনক নড়েছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের। তাই বেছে বেছে তৃণমূল পরিচালিত পুরসভাগুলির প্রধানদের মুখ্যমন্ত্রীর ওই বৈঠকে ডাকা হয়েছিল। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক থেকে এভাবে বিরোধী পরিচালিত পুরসভাকে বাদ দেওয়া যায় কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। সিপিএম পরিচালিত নদীয়ার তাহেরপুর পুরসভাকে বৈঠকে ডাকা হয়নি বলে জানিয়েছেন দলের নেতা সুজন চক্রবর্তী। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে পুর নির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে মুখ্যমন্ত্রীর এই বৈঠকের মাধ্যমে কাজের খামতির কথা তুলে ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘর গোছানো বার্তা দিলেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই বৈঠকে সাংবাদিকদের থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ফলে মুখ্যমন্ত্রী কীভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, তা চাক্ষুষ করতে পেরেছেন রাজ্যবাসী। অনেকে মনে করছেন, এটাই মুখ্যমন্ত্রীর স্টাইল। বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি যে পুরসভাগুলির কাজে গতি আনতে চাইছেন এবং কড়া ব্যবস্থা নিতে চাইছেন, সেই বার্তা দিয়ে পুরবাসীর মন পাওয়ার ব্যবস্থা হল লাইভ টেলিকাস্টের মাধ্যমে। মুখ্যমন্ত্রীর জেলা প্রশাসনিক বৈঠকগুলিও এই কারণেই টিভি চ্যানেলগুলিতে লাইভ টেলিকাস্ট করে দেখানো হয় বলে তাঁরা মনে করেন।
এবারের লোকসভা ভোটে তৃণমূল গতবারের চেয়ে সাতটি বেশি আসন পেয়েছে। বিজেপি গতবারের চেয়ে ছ’টি আসন কম পেয়েছে। কংগ্রেস মাত্র একটি আসন পেয়েছে। আর সিপিএম আগের মতোই শূন্য। কিন্তু এই নির্বাচনে বিরোধীরা দু’হাজার একুশ সালের বিধানসভা ভোটের তুলনায় অনেকগুলি আসনে এগিয়ে গিয়েছে। এটা হয়েছে তৃণমূলের মাথাব্যথার কারণ। দু’হাজার একুশ সালের বিধানসভা নির্বাচনে যে বিজেপি সাতাত্তরটি আসনে জয়ী হয়েছিল, সেই তারা এবার লোকসভা ভোটে এগিয়ে রয়েছে নব্বইটিতে। যে কংগ্রেস এবং বামেরা পেয়েছিল শূন্য, সেই তারা এগিয়ে রয়েছে এগারোটিতে এবং বামেরা একটিতে। তাই তৃণমূল কংগ্রেস পুরসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের আগে ঘর মেরামত করতে উঠেপড়ে লেগেছে। যদিও বিরোধীরা মনে করে, পঞ্চায়েত নির্বাচনের মতো পুরভোটেও ভোট লুট হয়। তাই অধিকাংশ পুরসভা, পঞ্চায়েত তৃণমূলের দখলে যায়। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অধীনে হয় কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী দিয়ে। তাই এই নির্বাচন নিয়ে চিন্তিত হতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস। সেজন্য ঘর গুছাতে চাইছে তারা।

City Today News

ghanty
monika and rishi

Leave a comment