হেমন্ত সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুললেন বাবুলাল মারান্ডি
ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচিতে বৃহস্পতিবার এক অভূতপূর্ব ও সংবেদনশীল ঘটনার সাক্ষী থাকল রাজ্যবাসী। এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ হঠাৎই রাঁচিতে অবস্থিত ইডি-র আঞ্চলিক কার্যালয়ে পৌঁছে তদন্তমূলক অভিযান চালায়। এই ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসনিক মহল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গন—সবখানেই চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
সূত্রের খবর, জলসরবরাহ দপ্তরের কর্মী সন্তোষ কুমারের করা অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেয় পুলিশ। অভিযোগে তিনি দাবি করেছেন, ইডির দুই আধিকারিক—প্রতীক ও শুভম—তাকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে মারধর করেছেন। এই গুরুতর অভিযোগের পরই রাঁচির এয়ারপোর্ট থানায় একটি মামলা দায়ের হয় এবং সেই মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই পুলিশ ইডি অফিসে পৌঁছয়।
ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে মামলা, শুরু রাজনৈতিক টানাপোড়েন
জানা গেছে, জলসরবরাহ দপ্তর সংক্রান্ত একটি মামলায় দুই দিন আগে ইডি কর্তৃপক্ষ সন্তোষ কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠিয়েছিল। অভিযোগ, সেই সময়েই তার উপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ জানান। বিষয়টি সামনে আসতেই রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি পুলিশের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। অন্যদিকে রাজ্যের শাসক দল ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
বাবুলাল মারান্ডির বিস্ফোরক অভিযোগ
ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা বাবুলাল মারান্ডি সামাজিক মাধ্যমে এক বিস্ফোরক বার্তায় হেমন্ত সোরেন সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি লেখেন, রাঁচির এয়ারপোর্ট রোডে অবস্থিত ইডির আঞ্চলিক কার্যালয় পুলিশ দিয়ে ঘিরে ফেলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ওই দপ্তরে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন ও রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির গুরুত্বপূর্ণ নথি ও প্রমাণ রয়েছে।
মারান্ডির আশঙ্কা, পুলিশের এই অভিযানের আড়ালে সেই সব গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট বা লোপাট করার চেষ্টা হতে পারে। তিনি আরও দাবি করেন, ঝাড়খণ্ডে আগেও ইডির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে এবং শাসকদলের কর্মীদের দ্বারা ইডির উপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এই ধরনের ঘটনা তদন্তকারী সংস্থার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি
বাবুলাল মারান্ডি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যাতে রাঁচির ইডি দপ্তরের নিরাপত্তায় অবিলম্বে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সঞ্জয় শেঠও এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
বর্তমানে ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ওঠা মারধরের অভিযোগের তদন্ত চলছে। তবে এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা ও রাজনীতির সংযোগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং শেষ পর্যন্ত সত্য কীভাবে সামনে আসে, সেদিকেই এখন নজর গোটা রাজ্যের।











